বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৬তম আসরের মূল কুস্তি প্রতিযোগিতা শেষ হলেও একে ঘিরে আয়োজিত তিন দিনের বৈশাখী মেলা শেষ হচ্ছে আজ শনিবার। মেলার শেষ দিনেও লালদীঘি ময়দান ও আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলায় অংশ নিতে ঢাকা, টাঙ্গাইল, বরিশাল, নরসিংদী, সাভার, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকশ বিক্রেতা তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মেলায় মাটির তৈরি তৈজসপত্র, খেলনা, কুটির শিল্প, বেত ও বাঁশের নানা হস্তশিল্প, হাতপাখা, শীতল পাটি, দা-বঁটি, ফুলের ঝাড়ু থেকে শুরু করে ফলদ গাছের চারা— কী নেই! প্রচলিত আছে, এই মেলায় ‘সুঁই থেকে ফুলশয্যার খাট’ পর্যন্ত পাওয়া যায়।
শুক্রবার মেলার দ্বিতীয় দিনে এবং বলীখেলার মূল দিনে লালদীঘি এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। লালদীঘি মাঠের চারপাশ, সিনেমা প্যালেস থেকে শাহ আমানত মাজার গেট এবং টেরি বাজার থেকে কোতোয়ালী মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বসা দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। নানা বয়সী মানুষ ঘুরে ঘুরে তাদের পছন্দের জিনিসপত্র কিনেছেন।
টাঙ্গাইল থেকে আসা মৃৎশিল্পী গোবিন্দ, ঢাকা থেকে ১৫০ পদের মাটির তৈজসপত্র নিয়ে আসা শাকিল রহমান, সাভার ও গাজীপুরের সুজিত ও দেবরাজ, নরসিংদী থেকে বাঁশের হস্তশিল্প নিয়ে আসা রহমান শরীফ ও তার দলসহ অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী প্রতি বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। কেউ কেউ জানালেন, মেলার জন্য তারা ৬ মাস ধরে প্রস্তুতি নেন।

তবে বিক্রেতাদের অনেকে এবারের বেচাকেনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বরিশাল থেকে আসা এক ব্যবসায়ী বলেন, “২৫ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে এসেছি। অন্যান্যবার ৫-৬ দিন থাকলেও এবার মেলা মাত্র ৩ দিনের। সে তুলনায় খরচ বেশি।” ঢাকা থেকে আসা শাকিল রহমান অবশ্য জানান, বৃহস্পতিবারের চেয়ে শুক্রবার বিক্রি ভালো হয়েছে এবং শনিবারও ভালো বিক্রির আশা করছেন তিনি। কয়েকজন বিক্রেতা জানান, লোকসমাগম প্রচুর হলেও তুলনামূলকভাবে বিক্রি কিছুটা কম।
এদিকে, শুক্রবার বিকেলে লালদীঘি মাঠে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ১১৬তম জব্বারের বলীখেলার উদ্বোধন করেন। আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব শওকত আনোয়ার বাদল জানান, ১২০ জন নিবন্ধন করলেও বাছাই শেষে ৮০ জন বলী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এদের মধ্যে ৪০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। চ্যালেঞ্জ রাউন্ডে গতবারের শীর্ষ চারজন ও নতুন চারজনের মধ্যে লড়াই শেষে চারজন সেমিফাইনালে খেলেন। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের অনেক গৃহস্থ এই মেলা থেকেই তাদের সারা বছরের প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী কিনে থাকেন। শনিবার দিনভর কেনাকাটার মধ্য দিয়ে শেষ হবে শতবর্ষী এই মেলার এবারের আয়োজন।