সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম ওয়াসা: হাজার হাজার স্মার্ট মিটার বসালেও বিলিংয়ে ত্রুটি, সমাধান কী?

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো ৩ হাজার স্মার্ট ওয়াটার মিটারের পাইলট প্রকল্পে নানা ত্রুটি ধরা পড়েছে। বিশেষ করে মাস শেষে বিলিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অথচ এই পাইলট প্রকল্পের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই নগরীর সব গ্রাহককে স্মার্ট মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল ওয়াসা কর্তৃপক্ষের।

চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ মিটার রিডারদের মাধ্যমে রিডিং সংগ্রহ ও বিলিংয়ের গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবং সিস্টেম লস কমাতে ৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই পাইলট প্রকল্পটি গ্রহণ করে। প্রথম পর্যায়ে নগরীর চান্দগাঁও জোনে ৩ হাজার স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট পদ্মা স্মার্ট টেকনোলজি মিটারগুলো বসানোর কাজ করছে।

প্রকল্পের শুরুতে ওয়াসা জানিয়েছিল, স্মার্ট মিটার বসানো হলে মিটার রিডারের প্রয়োজন হবে না, স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের ব্যবহৃত পানির হিসাব ওয়াসার সেন্ট্রাল সার্ভারে চলে আসবে, ফলে পানি চুরি ও অপচয় কমবে এবং গ্রাহক ভোগান্তি দূর হবে।

কিন্তু চান্দগাঁও এলাকায় বসানো এসব মিটারের বেশ কয়েকটিতে মাস শেষে বিল তৈরিতে নানা ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে স্মার্ট মিটারে বিলিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এই বিষয়গুলো আমরা নোট আকারে বাণিজ্যিক বিভাগকে জানাব।” তবে এসব ত্রুটি সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরে ওয়াসার সামগ্রিক রাজস্ব আয় বেড়েছে এবং সিস্টেম লস গত মাসে ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মূলত ওয়াসার সিস্টেম অ্যানালিস্ট শফিকুল বাশার প্রকল্পটি দেখভাল করতেন। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত চলাকালে তিনি এক বছরের শিক্ষা ছুটি নিয়ে দুবাই চলে যান। তার অনুপস্থিতিতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পের মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেয় তারই স্ত্রী ও একই বিভাগের কম্পিউটার প্রোগ্রামার লুৎফি জাহানকে। তার তত্ত্বাবধানেই ৩ হাজার মিটার বসানো হয়েছে। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জানার জন্য লুৎফি জাহানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ৫টি স্মার্ট মিটার বসিয়ে সফলতা এবং বুয়েটের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই ওয়াসা এই পাইলট প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল। কিন্তু এখন বিলিং সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পূরণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

চট্টগ্রাম ওয়াসা: হাজার হাজার স্মার্ট মিটার বসালেও বিলিংয়ে ত্রুটি, সমাধান কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ এপ্রিল ২০২৫, ২০:০৫

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো ৩ হাজার স্মার্ট ওয়াটার মিটারের পাইলট প্রকল্পে নানা ত্রুটি ধরা পড়েছে। বিশেষ করে মাস শেষে বিলিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অথচ এই পাইলট প্রকল্পের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই নগরীর সব গ্রাহককে স্মার্ট মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল ওয়াসা কর্তৃপক্ষের।

চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ মিটার রিডারদের মাধ্যমে রিডিং সংগ্রহ ও বিলিংয়ের গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবং সিস্টেম লস কমাতে ৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই পাইলট প্রকল্পটি গ্রহণ করে। প্রথম পর্যায়ে নগরীর চান্দগাঁও জোনে ৩ হাজার স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট পদ্মা স্মার্ট টেকনোলজি মিটারগুলো বসানোর কাজ করছে।

প্রকল্পের শুরুতে ওয়াসা জানিয়েছিল, স্মার্ট মিটার বসানো হলে মিটার রিডারের প্রয়োজন হবে না, স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের ব্যবহৃত পানির হিসাব ওয়াসার সেন্ট্রাল সার্ভারে চলে আসবে, ফলে পানি চুরি ও অপচয় কমবে এবং গ্রাহক ভোগান্তি দূর হবে।

কিন্তু চান্দগাঁও এলাকায় বসানো এসব মিটারের বেশ কয়েকটিতে মাস শেষে বিল তৈরিতে নানা ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে স্মার্ট মিটারে বিলিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এই বিষয়গুলো আমরা নোট আকারে বাণিজ্যিক বিভাগকে জানাব।” তবে এসব ত্রুটি সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরে ওয়াসার সামগ্রিক রাজস্ব আয় বেড়েছে এবং সিস্টেম লস গত মাসে ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মূলত ওয়াসার সিস্টেম অ্যানালিস্ট শফিকুল বাশার প্রকল্পটি দেখভাল করতেন। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত চলাকালে তিনি এক বছরের শিক্ষা ছুটি নিয়ে দুবাই চলে যান। তার অনুপস্থিতিতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পের মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেয় তারই স্ত্রী ও একই বিভাগের কম্পিউটার প্রোগ্রামার লুৎফি জাহানকে। তার তত্ত্বাবধানেই ৩ হাজার মিটার বসানো হয়েছে। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জানার জন্য লুৎফি জাহানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ৫টি স্মার্ট মিটার বসিয়ে সফলতা এবং বুয়েটের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই ওয়াসা এই পাইলট প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল। কিন্তু এখন বিলিং সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পূরণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।