মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা, সেপ্টেম্বরে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্রে (ম্যানুফ্যাকচারিং হাব) পরিণত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধিকে ‘প্রথম শর্ত’ হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ছয় গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মূল ম্যান্ডেট হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করা। দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিতে এবং তরুণদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করতে এটি প্রয়োজন।

শফিকুল আলম বলেন, “এই ম্যানুফ্যাকচারিং হাব শুধু বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য নয়, এটি পুরো অঞ্চলের ৩০-৪০ কোটি মানুষের জন্য হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করেই এই হাব গড়ে উঠবে। এখানে উৎপাদিত পণ্য শুধু দেশে বা আশেপাশের অঞ্চলে নয়, বিদেশেও রপ্তানি হবে।”

রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে বন্দরের দক্ষতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “একজন বিদেশি রপ্তানিকারক বাংলাদেশে পণ্য তৈরি করতে আসবেন কম উৎপাদন খরচের জন্য। কিন্তু তিনি চাইবেন যত দ্রুত সম্ভব পণ্য রপ্তানি করতে। এজন্য আমাদের পোর্টের এফিশিয়েন্সি দরকার। দুবাইতে যেখানে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ১ মিনিট লাগে, বাংলাদেশে সেখানে ৫ মিনিট লাগছে।”

এই দক্ষতা বাড়াতে বিশ্বের সেরা ও অভিজ্ঞ বন্দর ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর সাথে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, “আমরা সেই কোম্পানিগুলোর সাথে কথা বলছি, যাদের পুরো পৃথিবীতে স্টাবলিশড রেকর্ড আছে। কোনও ফালতু কোম্পানি না। যারা ৭০-৮০টা পোর্ট হ্যান্ডেল করছেন, বিভিন্ন মহাদেশে কাজ করছেন, তাদের সাথেই আমরা কথা বলছি। আমরা চাইছি এটা সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে।”

তিনি জানান, বর্তমানে চট্টগ্রামের সব টার্মিনাল (লালদিয়া, বে টার্মিনাল, পতেঙ্গা টার্মিনাল, মাতারবাড়ি সহ) মিলিয়ে মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার টিইইউ’স। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ছয় গুণ বাড়িয়ে ৭৮ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আলম যোগ করেন, “চট্টগ্রাম ঘিরে পুরো অঞ্চলটাই পোর্টের জন্য উপযুক্ত। বন্দরের দক্ষতার সাথে সংযুক্ত সড়কসহ সবকিছুরই সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

আইন লঙ্ঘনকারী যেই হোক ব্যবস্থা

আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন প্রেস সচিব। একাত্তর টিভির ব্যুরো প্রধান সাইফুল ইসলাম শিল্পী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এবং পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেয় না।

জবাবে শফিকুল আলম বলেন, “অপরাধ করলে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। কে আওয়ামী লীগের দোসর সেটা দেখে সরকার ব্যবস্থা নেয় না। সরকার যখন দেখবে আইন লঙ্ঘন হচ্ছে, তখন অ্যাকশনে যাবে, সে যেই হোক।”

দৈনিক আমার দেশের নিজস্ব প্রতিবেদক জমির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার জব্দ বা অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এবং খাগড়াছড়িতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অভিযুক্ত নেতাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না।

এর উত্তরে প্রেস সচিব বলেন, “যদি মামলার আসামি হয়, আমরা অবশ্যই পুলিশকে বলবো যে, তাদেরকে অতি সত্ত্বর যেন গ্রেপ্তার করা হয়।”

‘মানবিক করিডোর’ প্রসঙ্গে

মিয়ানমার সীমান্তে সম্ভাব্য মানবিক করিডোর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। করিডোর হতে হবে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্টতায়।

“আমরা বলেছি যে মানবিক করিডরে আমরা ইচ্ছুক, যদি জাতিসংঘ কোনো উদ্যোগ নেয়। তাছাড়া এ ধরনের বিষয়ে দুটি দেশের সাথে কথা বলতে হয়। জাতিসংঘ যদি উদ্যোগ নেয় আর মিয়ানমার যদি রাজি থাকে, তখন বাংলাদেশ থেকে সিদ্ধান্তটা আসবে। এটা অনেক দূরের বিষয়।”

তিনি পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “তারা (আওয়ামী লীগ) রোহিঙ্গা নাম নিতে ভয় পেত। মিয়ানমারের লোকেরা বলতো রোহিঙ্গারা বাঙালি, তারাও সেই কথা বলতো। রোহিঙ্গা নাম নিতে ভয় পেয়ে তারা নাম নিয়েছিল এফডিএমএন (বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক)। রোহিঙ্গা নাম না নেওয়া মানে আপনি রোহিঙ্গাদের অধিকারে বিশ্বাস করেন না। আওয়ামী লীগের কোনও অধিকারই নাই এগুলো নিয়ে কথা বলার।”

পাঠকপ্রিয়