সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

তিন দিনের ছুটি: কক্সবাজারে ৫ লাখ পর্যটকের ভিড়, বাসের চাপে যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে দিবস উপলক্ষে টানা তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। গত তিনদিনে সৈকত নগরীতে অন্তত পাঁচ লাখ পর্যটকের সমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও যানবাহনের চাপে শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, ১ মে থেকে ৩ মে শনিবার পর্যন্ত ছুটিতে আসা পর্যটকদের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু শিক্ষাসফর ও পিকনিকের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাত শতাধিক বাস এসেছে, যাতে ছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। এসবের মধ্যে ৬০০টির বেশি বাস ট্রাফিক পুলিশের অনুমতি নিয়ে শহরে প্রবেশ করেছে, শতাধিক বাস রাখা হয়েছে শহরের বাইরে। এর বাইরে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনে এসেছেন আরও লাখো পর্যটক।

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে শহরের সৈকত সড়ক, কলাতলী মোড় এবং বাইপাস সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। যানজট সামলাতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

শনিবার দুপুরে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র গরম উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্রস্নানে নেমেছেন। লোনা জলে গা ভাসিয়ে ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করছেন তারা। সুগন্ধা পয়েন্টেই ছিলেন অন্তত ২০ হাজার পর্যটক। পাশের কলাতলী ও লাবণী পয়েন্টসহ পুরো সৈকত জুড়ে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

সমুদ্র উত্তাল থাকায় এবং পর্যটকদের ভিড় বেশি হওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, “সাগর উত্তাল, তার ওপর প্রচণ্ড গরম। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষজন সমুদ্রে নামছেন। ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে যাওয়া মানুষদের উদ্ধারে ২৭ জন লাইফগার্ড সদস্য তৎপর রয়েছেন।”

কক্সবাজার কলাতলী হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, পাঁচ লাখের বেশি পর্যটক এসেছেন এই ছুটিতে। সৈকত ছাড়াও পর্যটকরা মেরিন ড্রাইভ সড়ক, হিমছড়ি ঝরনা, ইনানী ও পাটোয়ারটেক পাথুরে সৈকত, রামু বৌদ্ধপল্লি, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ছুটি শেষ হওয়ায় শনিবার বিকেল থেকে অনেকে কক্সবাজার ছাড়তে শুরু করেছেন।

হোটেল মালিক ও ট্যুর অপারেটররা জানান, এবার শিক্ষাসফর ও পিকনিকের বাসের সংখ্যা অন্যবারের চেয়ে বেশি। বাস টার্মিনালে জায়গা না হওয়ায় পিকনিকের বাসগুলো বাইপাস সড়কের দুই পাশে, বিভিন্ন আবাসিক এলাকার সড়ক ও খোলা জায়গায় রাখা হয়েছে।

ঢাকার তেজগাঁও থেকে একটি পোশাক কারখানার ৫০-৬০ জন শ্রমিক পিকনিকে এসেছেন। তাদের একজন নজরুল ইসলাম বলেন, “পয়লা মে উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি পেয়েছি। তাই সবাই মিলে কক্সবাজার এসেছি। শনিবার বিকেলে ঢাকায় ফেরার কথা।”

ট্যুর অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, অনেকে এখন কম খরচে ও নিরাপদে ভ্রমণের জন্য ট্যুর অপারেটরদের প্যাকেজ নিচ্ছেন। তবে সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এবং সাগর উত্তাল থাকায় মহেশখালী ভ্রমণেও পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করায় এবার ভ্রমণের স্থান কিছুটা সীমিত ছিল।

পাঠকপ্রিয়