অত্যাধুনিক স্ক্যানার স্থাপনের পর এবার আমদানি কনটেইনার খালাসও শুরু হয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত আরএসজিটি চিটাগং টার্মিনালে (সাবেক পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল)। এর মধ্য দিয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) পরিচালিত দেশের প্রথম এই টার্মিনালটি পুরোদমে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম শুরু করল।
টার্মিনালটি পরিচালনাকারী সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) জানিয়েছে, এতদিন শুধু রপ্তানি কনটেইনার বোঝাই করা হলেও সম্প্রতি নতুন স্ক্যানার মেশিন স্থাপনের পর আমদানি কনটেইনার নামানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) প্রায় ১ হাজার ৭০০ টিইইউ (বিশ ফুট দৈর্ঘ্যের সমতুল্য একক) আমদানি কনটেইনার নিয়ে টার্মিনালে ভেড়ে ‘এমভি মায়ের্সক চট্টগ্রাম’ নামের একটি জাহাজ। জাহাজটি থেকে এসব কনটেইনার নামানোর পর প্রায় ২ হাজার ৪০০ টিইইউ রপ্তানি কনটেইনার বোঝাই করা হয়। সব মিলিয়ে এক জাহাজেই প্রায় ৪ হাজার ১০০ টিইইউ কনটেইনার ওঠানামা পরিচালনা করে আরএসজিটি। শনিবার (৩ মে) জাহাজটি মালয়েশিয়ার বন্দরের উদ্দেশে টার্মিনাল ছেড়ে যায়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত বছরের জুনে পিপিপির আওতায় দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনার জন্য টার্মিনালটি আরএসজিটির হাতে তুলে দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এতদিন শুধু রপ্তানি কনটেইনার জাহাজে তুলছিল প্রতিষ্ঠানটি। কারণ, আমদানি কনটেইনার নামানোর পর স্ক্যানিং ছাড়া বন্দর ইয়ার্ডের বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আরএসজিটি জানিয়েছে, সম্প্রতি তারা ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি নতুন স্ক্যানার স্থাপন করেছে, যা ঘণ্টায় ১৫০ টিইইউ কনটেইনার স্ক্যান করতে সক্ষম। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে এখন পুরোদমে আমদানি কনটেইনার খালাস শুরু হয়েছে।
আরএসজিটি চট্টগ্রামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যারউইন হেইজ এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে পূর্ণাঙ্গ পরিচালন কার্যক্রমে যাচ্ছি, যা আরএসজিটি চিটাগং টার্মিনালের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। আমরা বিশ্বমানের পরিষেবা নিশ্চিত করে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণে অবদান রাখতে পেরে গর্বিত।”
যদিও আমদানি-রপ্তানি উভয় ধরনের কনটেইনার ওঠানামা শুরু হয়েছে, টার্মিনালটিতে এখনও বিশেষায়িত জেটি ক্রেন (কী ক্রেন) যুক্ত হয়নি। বর্তমানে জাহাজের নিজস্ব ক্রেন দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। আরএসজিটি জানিয়েছে, তারা টার্মিনালের জন্য উপযোগী করে ৫৬ মিলিয়ন ডলারের কনটেইনার ওঠানো-নামানোর যন্ত্রপাতি তৈরির কার্যাদেশ সানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রিকে দিয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি তৈরি শেষে দেশে পৌঁছালে টার্মিনালের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, নতুন যন্ত্রপাতি যুক্ত হওয়ার পর ২০২৬ সাল নাগাদ টার্মিনালটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ছয় লাখ টিইইউতে উন্নীত হবে।