সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

আম রফতানিতে বড় লক্ষ্যমাত্রা, নতুন গন্তব্য চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বে আম উৎপাদনে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় থাকলেও রফতানিতে বরাবরই সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। এ ব্যর্থতার পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা, উত্তম কৃষি পদ্ধতি (গ্যাপ) অনুসরণে ঘাটতি, প্যাকেজিং দুর্বলতা, ব্র্যান্ডিং সংকট এবং অত্যধিক বিমান ভাড়াকে দায়ী করে থাকেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তবে অতীতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলতি মৌসুমে বিশ্বের ৩৮টি দেশে পাঁচ হাজার টন আম রফতানির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত মৌসুমের প্রকৃত রফতানির চেয়ে ৩ হাজার ৬৭৯ টন বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দেশে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫ লাখ টন আম উৎপাদন হতে পারে। এর মধ্যে রফতানিযোগ্য আমের পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার টন।

রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, দেশে এ বছর ২৪-২৫ লাখ টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে রফতানিযোগ্য প্রায় ৪০ হাজার টন। অতীতে যেখানে দেড় হাজার টন আম রফতানির লক্ষ্যমাত্রা থাকতো, সেখানে এবার তা পাঁচ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া, একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে নতুন করে চীনে আম রফতানি শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও জাপানে রফতানির বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে আমের সবচেয়ে বেশি ফলন হয় নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রংপুরে। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে আমের ফলন ছিল ২৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৯ টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৭ হাজার ৪৫৯ টনে। তবে গত অর্থবছর (২০২৩-২৪) দেশে ২৫ লাখ ৮ হাজার ৯৭৩ টন আম উৎপাদন হয়েছে।

উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় হলেও রফতানিতে বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৭৫৭ টন আম রফতানি হয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ৩১ টন বেড়ে ১ হাজার ৭৮৮ টনে পৌঁছায়। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই পরিমাণ কমে ১ হাজার ৩২১ টনে নেমে আসে। তবে এ বছর রফতানির লক্ষ্যমাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে।

কৃষি অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশের প্রায় ১০টি জেলায় উৎপাদিত ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাতি, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্ণরেখা, আলফানসো, হাঁড়িভাঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতের আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ৩৮টি দেশে রফতানি করা হয়। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ইতালি ও সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি আম যায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, কুয়েত, কাতারসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও বাংলাদেশের আম সমাদৃত।

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, “আবহাওয়া ও ভৌগোলিক কারণে এ দেশে আমের উৎপাদন বেশি। প্রতি মৌসুমে ২০-২৫ লাখ টন আম উৎপাদন হয়, যা বিশ্বের মধ্যে সপ্তম। আমাদের আম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। তবে এবার রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী আম পাঠাতে পারলে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।”

নতুন বাজার হিসেবে চীনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, “তারা বাংলাদেশ থেকে আম কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। আর চীনে রফতানির ক্ষেত্রে যে বাধাগুলো ছিল সেগুলো কেটে গেছে। তাই আশা করছি এবার সর্বোচ্চ পরিমাণে আম রফতানি হবে।”

রফতানিযোগ্য আমের পরিমাণ ৪০ হাজার টন হলেও লক্ষ্যমাত্রা কেন এত কম, এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আরিফুর রহমান উল্লেখ করেন, “আমাদের মতো আরও অনেক দেশ আম উৎপাদন ও রফতানি করে। সেসব দেশে তো আমরা রফতানি করতে পারি না। আবার আমাদের রফতানির ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা হচ্ছে বিমান ভাড়া বেশি এবং বিমানে জায়গার সংকট। অথচ ভারত-পাকিস্তানে তা অনেক কম। বিমান ভাড়া কমানো হলে এবং বিমানে পর্যাপ্ত জায়গা পেলে আমরা অনেক বেশি আম ও সবজি রফতানি করতে পারব।”

পাঠকপ্রিয়