জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং কাকরাইলের ঘটনা নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে বিবৃতি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। তিনি বলেছেন, ভুল হলে তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে আমরা এগুতে চাই। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাতে দেওয়া ওই দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি কাকরাইলের ঘটনা ও নিজের ওপর কথিত ‘হামলার’ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
ফে ফেসবুক পোস্টে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জবি’র শহিদ ও আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, জবি’র ভাইবোনদের বলব, আপনাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই আমি গিয়েছিলাম। জুলাই আমাদের মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের আত্মিক বন্ধন তৈরি করেছে। আশা করি, এ বন্ধন কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ছিন্ন হবে না। আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আপনারা আমাকে সঙ্গে পাবেন।
কাকরাইলের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে মাহফুজ আলম জানান, গত পরশু (বুধবার) রাতে যখন এসব দাবি নিয়ে জবি থেকে তাকে জানানো হয়, তখন তিনি তাদের গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ৯টায় তার বাসায় আসার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু, গতকাল সকালে তারা আন্দোলনে নামেন এবং যমুনার কাছাকাছি পৌঁছে যান। গতকাল দুপুর থেকেই ভিসি স্যারের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করেছিলেন। শেষপর্যন্ত রাতে এক ঘণ্টা ধরে তিনটা টকিং পয়েন্ট নির্ধারণ করে তিনি ভিসি স্যার ও অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে কাকরাইল মোড়ে যান। সেখানে মিডিয়ার লোকজন শিক্ষার্থীদের থেকে ৫০ মিটার দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি ভিসি স্যারকে বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে কথা বলবেন।
কাকরাইলে শিক্ষার্থীদের সামনে যাওয়ার পর একটা গ্রুপ স্লোগান দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বিব্রত না হয়ে, নিজের দায়িত্ব পালনে কথা বলা শুরু করেন। পূর্বনির্ধারিত টকিং পয়েন্ট অনুযায়ী পুলিশের বাড়াবাড়ি অথবা স্ব-উদ্যোগে ‘উসকানিমূলক’ কিছু করলে ক্ষমাপ্রার্থনা ও বিভাগীয় তদন্তের কথা বলতে গিয়েছিলেন। তখনই একজন শিক্ষার্থী বোতল নিক্ষেপ করেন বলে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন। ওই শিক্ষার্থীর এই কাজকে তিনি ‘অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আশা করেন প্রশাসন দ্রুতই খতিয়ে দেখবে কেন এবং কার মদদে এটি করা হয়েছে।
বোতল নিক্ষেপের পর তিনি হতাশা নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন এবং স্যারদের সঙ্গে তার হতাশা ও ক্ষুব্ধতা ব্যক্ত করেন। গত এক সপ্তাহব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দলের নিয়মিত আক্রমণ ও হত্যার হুমকির কারণে তার ন্যায্য অনুমান ছিল এটা হুমকিদাতা দলের কাজ হতে পারে। তার হতাশা ও ক্ষুব্ধতা কাউকে আঘাত করলে তিনি আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করেন।
তথ্য উপদেষ্টা ফেসবুক পোস্টে বলেন, এ আক্রমণের ফলে ন্যায্য দাবির আন্দোলন বিতর্কিত হল। তিনি চেয়েছিলেন, জবি’র আবাসন সমস্যা যেন দ্রুত সমাধান হয়। পরবর্তীতে ৫০ মিটার দূরত্বে তিনি আরেকটা সংবাদ সম্মেলন করেন এবং সেখানে তার অফিশিয়াল বক্তব্য, আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা, দাবিপূরণের রোডম্যাপ ও পুলিশি হামলার বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস দেখতে পাওয়া যাবে। জবি’র শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা তিনি আবারও জানিয়েছেন। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, জবি’র শিক্ষার্থীদের আবাসনের দাবি ন্যায্য এবং আশা করেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান মিলে দ্রুতই একটি যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ সমাধানে আসবে।
পুনশ্চ উল্লেখ করে তিনি তার পোস্টে আরও লিখেছেন, গতকাল রাতে এসেই তিনি ডিএমপি কমিশনারকে বলে দিয়েছিলেন, যাতে জোরপূর্বক জবি শিক্ষার্থীদের সরানো না হয় এবং তাদের ওপর যেন কোনো রকম আক্রমণ না চালানো হয়। সবশেষে তিনি সবার সুমতি কামনা করেন এবং বলেন, ভুল হলে তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে আমরা এগুতে চাই।