সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে ৪৪ হাজার কেজি এলপিজি সরবরাহ

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এসএওসিএল) বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সধারী দুটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৪৪ হাজার কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অজান্তেই এই গ্যাস খালাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ। একটি সংবাদপত্রে গত বছরের ডিসেম্বরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসএওসিএল কর্তৃপক্ষের গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

গত ২২ মে জমা দেওয়া এসএওসিএলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মেসার্স সাগরিকা এজেন্সি এবং মেসার্স ডিভি গ্যাস সাপ্লাই নামের দুটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। সাগরিকা এজেন্সির লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হলেও, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের নামে ১০৬টি চালানের মাধ্যমে ২ হাজার ৪১৫টি এলপিজি-ভর্তি সিলিন্ডার (মোট ৩০,১৮৭ কেজি গ্যাস) সরবরাহ করা হয়। একইভাবে, ডিভি গ্যাস সাপ্লাইয়ের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পরও তাদের নামে ৫০টি চালানের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০টি সিলিন্ডারে মোট ১৩ হাজার ৬২৫ কেজি গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অনিয়মের সঙ্গে কোম্পানির এলপিজি বিভাগের তৎকালীন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত ছিলেন। তারা বিভিন্ন চালানে অনুমোদনকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। কিছু চালানে কোনো স্বাক্ষরই ছিল না, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মকর্তার উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও একজন কর্মচারী অনুমোদনকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি খালাস হওয়া একটি চালানে এসএওসিএলের তৎকালীন সহকারী ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আবদুস সালাম মীর এবং একই দিনে আরেকটি চালানে কর্মচারী হযরত আলী অনুমোদন দেন। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল আরেকটি চালান অনুমোদন করেন কনিষ্ঠ বিক্রয় সহকারী কায়ছার হামিদ।

এসএওসিএলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সধারী পরিবেশকের নামে গ্যাস সরবরাহ করার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু এই নিয়ম ভেঙেই পছন্দের পরিবেশককে সুবিধা দিতে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এলপিজি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই অনিয়ম করেছেন। তবে, যে পরিবেশকদের নামে গ্যাস সরবরাহ দেখানো হয়েছে, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে।

এই অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্ত সহকারী ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আবদুস সালাম মীরকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাছে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

এ বিষয়ে এসএওসিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী মাসুম বলেন, “কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন আমি পেয়েছি। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের পরামর্শ অনুযায়ী জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নামে সিলিন্ডার খালাসে নিশ্চিতভাবে অর্থের লেনদেন হয়েছে। তাই জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা উচিত। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে কোম্পানির আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে ৪৪ হাজার কেজি এলপিজি সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুন ২০২৫, ১৭:৩২

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এসএওসিএল) বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সধারী দুটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৪৪ হাজার কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অজান্তেই এই গ্যাস খালাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ। একটি সংবাদপত্রে গত বছরের ডিসেম্বরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসএওসিএল কর্তৃপক্ষের গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

গত ২২ মে জমা দেওয়া এসএওসিএলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মেসার্স সাগরিকা এজেন্সি এবং মেসার্স ডিভি গ্যাস সাপ্লাই নামের দুটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। সাগরিকা এজেন্সির লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হলেও, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের নামে ১০৬টি চালানের মাধ্যমে ২ হাজার ৪১৫টি এলপিজি-ভর্তি সিলিন্ডার (মোট ৩০,১৮৭ কেজি গ্যাস) সরবরাহ করা হয়। একইভাবে, ডিভি গ্যাস সাপ্লাইয়ের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পরও তাদের নামে ৫০টি চালানের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০টি সিলিন্ডারে মোট ১৩ হাজার ৬২৫ কেজি গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অনিয়মের সঙ্গে কোম্পানির এলপিজি বিভাগের তৎকালীন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত ছিলেন। তারা বিভিন্ন চালানে অনুমোদনকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। কিছু চালানে কোনো স্বাক্ষরই ছিল না, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মকর্তার উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও একজন কর্মচারী অনুমোদনকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি খালাস হওয়া একটি চালানে এসএওসিএলের তৎকালীন সহকারী ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আবদুস সালাম মীর এবং একই দিনে আরেকটি চালানে কর্মচারী হযরত আলী অনুমোদন দেন। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল আরেকটি চালান অনুমোদন করেন কনিষ্ঠ বিক্রয় সহকারী কায়ছার হামিদ।

এসএওসিএলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সধারী পরিবেশকের নামে গ্যাস সরবরাহ করার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু এই নিয়ম ভেঙেই পছন্দের পরিবেশককে সুবিধা দিতে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এলপিজি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই অনিয়ম করেছেন। তবে, যে পরিবেশকদের নামে গ্যাস সরবরাহ দেখানো হয়েছে, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে।

এই অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্ত সহকারী ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আবদুস সালাম মীরকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাছে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

এ বিষয়ে এসএওসিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী মাসুম বলেন, “কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন আমি পেয়েছি। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের পরামর্শ অনুযায়ী জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নামে সিলিন্ডার খালাসে নিশ্চিতভাবে অর্থের লেনদেন হয়েছে। তাই জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা উচিত। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে কোম্পানির আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”