মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

দেড়শ বছরের রিয়াজউদ্দিন বাজার: জৌলুশ কমলেও ব্যবসা হাজার কোটি টাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী পাইকারি ও খুচরা বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারের বয়স দেড়শ বছর পেরিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা জৌলুশ হারালেও সাড়ে তিন হাজারের বেশি দোকানের এই বাজারে বছরে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবজি, চাল ও নানা পণ্যের ট্রাক এসে ভিড় করে এই বাজারে। দিনভর চলে পাইকারি ও খুচরা বেচাকেনা। সবজি থেকে শুরু করে কাপড়, মুঠোফোন, জুতা, গৃহস্থালি ও ইলেকট্রনিকস পণ্যসহ প্রায় সব ধরনের জিনিসই পাওয়া যায় এখানে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের পাশের এই এলাকাটি একসময় জমিদার দেওয়ান বৈদ্যনাথের জমিদারির অংশ ছিল। পরবর্তীতে তার উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে এলাকাটি কিনে নেন শেখ মোহাম্মদ ওয়াশীল সিদ্দিকি এবং তার ছেলে শেখ রেয়াজুদ্দিন সিদ্দিকির নামে বাজারের নামকরণ করেন, যা এখন ‘রিয়াজউদ্দিন বাজার’ নামে পরিচিত।

একসময় এই বাজার থেকেই পুরো চট্টগ্রাম শহরের দোকানগুলোতে পণ্য সরবরাহ করা হতো। তবে গত এক দশকে নগরের বিভিন্ন স্থানে নতুন বাজার গড়ে ওঠায় এখানকার ব্যবসার চাপ কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে সবজির আড়তগুলোর সংখ্যা কমে এসেছে।

রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক শিবলী বলেন, “গত এক দশকে আড়তগুলো বদলে গেছে। এখন আর আগের মতো ব্যস্ততা নেই। নগরের অনেক বাজারে ছোট ছোট পাইকারি আড়ত হয়েছে। তারা ব্যাপারীদের কাছ থেকে সরাসরি মালামাল কিনে বিক্রি করে।”

তবে জৌলুশ কমলেও রিয়াজউদ্দিন বাজারের বাণিজ্যিক গুরুত্ব এখনও অটুট। বাজারটির বণিক কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এখানে ছোট-বড় ২০টি সমিতির অধীনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি দোকান রয়েছে।

সমিতির সভাপতি ছালামত আলী বলেন, “আগের সেই জৌলুশ না থাকলেও এখনো চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার হিসেবে এটিই এগিয়ে। সবজি, মুদি, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্যসহ সব মিলিয়ে বছরে ৭০০ কোটি টাকার বেশি বেচাকেনা হয় এখানে।”

তবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ধারণা, বাজারের প্রকৃত লেনদেনের পরিমাণ আরও বেশি, যা বছরে এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

পাঠকপ্রিয়