সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে চালের বাজারে অস্থিরতা, বস্তাপ্রতি চালের দাম বাড়ল ৩০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির ঈদের পর চট্টগ্রামের বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, ধানের দাম বাড়া, ঈদের ছুটিতে চালকল বন্ধ থাকা এবং বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মজুতদারির অভিযোগ— মূলত এই চার কারণে চালের বাজার আবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রামে চালের মূল আড়ত পাহাড়তলী ও চাক্তাই ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগে নতুন বোরো ধান ওঠায় চালের দাম কিছুটা কমলেও, এক মাসের ব্যবধানে এখন সব ধরনের চালে কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৯ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় জিরাশাইল চালের দাম বস্তায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে ধান ও চাল পরিবহনের খরচ বেড়েছে। আগে যেখানে ট্রাকপ্রতি ভাড়া ছিল ২০ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ৩০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর কারণ হিসেবে তারা কোরবানির পশু ও মৌসুমি ফল পরিবহনে ট্রাকের বাড়তি চাহিদাকে দায়ী করছেন।

পাশাপাশি, কৃষকেরাও ধানের দাম বাড়িয়েছেন। বোরো মৌসুমের ইরি, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ ধানের দাম মণপ্রতি ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “হঠাৎই চালের দাম বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ পরিবহনের ভাড়া ও ধানের দাম বৃদ্ধি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান সরাসরি চাষিদের অগ্রিম টাকা দিয়ে ধান কিনে মজুত করছে। এ কারণে মিলের মালিকেরা ধান পাচ্ছেন না। এটিও চালের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।”

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জানান, ঈদের কারণে প্রায় ১৫ দিন চালকল বন্ধ থাকায় চালের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, যা দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “গত কয়েক দিনে বাজার কিছুটা নিম্নমুখী আছে এবং আগামী মাসের শুরুতে দাম আরও কমতে পারে।”

পাঠকপ্রিয়