মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

ঘরে ঘরে জ্বর: চিকুনগুনিয়ার তীব্র ব্যথায় ভুগছেন চট্টগ্রামের মানুষ

চট্টগ্রামে চার ধরনের জ্বরের প্রকোপ, শীর্ষে চিকুনগুনিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে বর্তমানে চার ধরনের জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে চিকুনগুনিয়ার দাপট সবচেয়ে বেশি। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে জ্বরের রোগীদের ভিড় বাড়ছে, যাদের বেশিরভাগই চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ নিয়ে আসছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে নগরীতে চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, সাধারণ ভাইরাস জ্বর (ফ্লু) এবং করোনাভাইরাস—এই চারটি জ্বরের প্রকোপ চলছে। এর মধ্যে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের শরীরে উচ্চমাত্রার জ্বরের সঙ্গে অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা এবং কখনও কখনও জয়েন্ট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর সেরে গেলেও এই ব্যথা সপ্তাহ বা মাসব্যাপী স্থায়ী হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, “আমাদের বহির্বিভাগে আসা রোগীদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। জ্বরের সঙ্গে জয়েন্টে ব্যথা, হাড় ফুলে যাওয়া ও র‍্যাশ থাকলে চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা বেশি।”

একই চিত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালেও। হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবদুস সাত্তার বলেন, “উপসর্গ দেখে ধারণা করছি, এবারে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বেশি। তবে পিসিআর পরীক্ষার সুযোগ কম থাকায় সুনির্দিষ্টভাবে আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালেও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বেশি ছিল এবং সেবার ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম ছিল। এবারও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

চিকুনগুনিয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। জুন মাসেই চট্টগ্রামে ১৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা এই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৪৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে সোমবার ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন।

এছাড়া, চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের সংক্রমণও ধীরে ধীরে বাড়ছে। জুন মাসে ১৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “করোনার সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে বৃষ্টির কারণে যত্রতত্র পানি জমে থাকলে এডিস মশার প্রজনন বাড়বে, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।”

চিকিৎসকরা জ্বর হলে নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পাঠকপ্রিয়