চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ গৃহকর আদায় করলেও, নাগরিক সেবার মান নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। একদিকে যেমন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া আদায়ের মাধ্যমে করপোরেশনের আয় বেড়েছে, তেমনি ভাঙাচোরা রাস্তা ও মশা-ময়লার দুর্ভোগ কমেনি বলে অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা।
চসিকের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৯৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা গৃহকর আদায় হয়েছে, যা করপোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং আগের অর্থবছরের (১৯৮ কোটি) তুলনায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি। এবার গৃহকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ৭৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
গৃহকর আদায় বাড়ার মূল কারণ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষই দিয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। চসিক সূত্র জানায়, বন্দরের জন্য নির্ধারিত গৃহকর পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে কমানো হলেও, বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেন আলোচনার মাধ্যমে তা পুনর্নির্ধারণ করেন।
তবে রাজস্ব আয় বাড়লেও সেবার মানে উন্নতি ঘটেনি বলে অভিযোগ নগরবাসীর। নগরের ভাঙাচোরা রাস্তা, যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ এবং মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর চট্টগ্রাম জেলার সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, “সিটি করপোরেশনের সেবামূলক কার্যক্রম এখনো গতানুগতিক। রাস্তায় গর্ত, সড়কবাতির অভাব, মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বাসিন্দা অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী আরশাদ চৌধুরী বলেন, “সড়কবাতি লাগানো ও রাস্তাঘাট কিছুটা উন্নত হলেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত বর্জ্য সরানো হয় না।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর করতে কর বৃদ্ধি নয়, বরং করদাতাদের কর প্রদানে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং করের আওতা বাড়ানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজস্ব আয়ের এই অর্থ সেবার মান বাড়াতেই ব্যবহার করা হবে। রাস্তাঘাট মেরামত, পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধনে ইতিমধ্যে কার্যক্রম চলছে।”