বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ চার ধরনের জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এর মধ্যে চিকুনগুনিয়ার দাপট সবচেয়ে বেশি, যাতে আক্রান্তদের তীব্র গাঁট ব্যথায় ভুগতে হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মশা নিধন কর্মসূচি চলছে মূলত গত বছরের একটি পুরোনো জরিপের ওপর ভিত্তি করে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম হলেও, এবার চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক হামিদুল্লাহ মেহেদী জানান, তাদের বহির্বিভাগে আসা জ্বর রোগীদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত।
একই কথা বলছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবদুস সাত্তার। তিনি বলেন, “উপসর্গ দেখে ধারণা করছি, এবারে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বেশি। তবে ডেঙ্গুও হচ্ছে। যে জ্বরই হোক না কেন, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।”
এদিকে, জুন মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৭৬ জন এবং চলতি জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫০ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৯৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চসিক গত ২৮ জুন থেকে একটি ‘বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে। তবে চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম জানান, এই কর্মসূচিটি ২০২৩-২৪ সালে করা একটি জরিপের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে নগরীর কোতোয়ালি, বাকলিয়া, বায়েজিদ, চকবাজার ও বন্দর এলাকাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “আগের জরিপ অনুযায়ী এটা করা হচ্ছে। সেই হটস্পটগুলো এখনো বিদ্যমান রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। নতুন জরিপ না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চলবে।”
জানা গেছে, রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) গত ফেব্রুয়ারিতে একটি জরিপ করলেও তার ফলাফল এখনও চসিককে দেওয়া হয়নি। তবে বর্ষার মৌসুমের বদলে শুষ্ক মৌসুমে করা সেই জরিপের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত কীটতত্ত্ববিদ মো. মইনুদ্দিন বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে মশার বিস্তার কম ছিল। আমরা নতুন একটি জরিপের জন্য আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”
তবে চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমাম হোসেন জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় নগরীর আলকরণে জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু (এনএস-১) এবং কোভিড-১৯ এর অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং একটি আইসোলেশন ওয়ার্ডও খোলা হয়েছে।