মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

পটপরিবর্তনের এক বছর: অপরাধ ‘স্থিতিশীল’ বলছে সরকার, পরিসংখ্যানে ভিন্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক বছর পার হলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ কাটছে না। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে অপরাধের মাত্রা ‘স্থিতিশীল’ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে পুলিশেরই পরিসংখ্যান এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, গত ১০ মাসে দেশে বড় ধরনের অপরাধের প্রবণতা বাড়েনি। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবেই দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ১,৯৩০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং প্রতি মাসেই খুনের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া পুলিশ বাহিনীকে পুরোপুরি সক্ষম করে তোলা যায়নি, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ। পুলিশের সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নূরুল হুদা মনে করেন, কর্তৃপক্ষের প্রতি অপরাধীদের ভয় কমে গেছে এবং অনেক ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করেছে।

মানবাধিকার সংগঠক নূর খান লিটন বলেন, রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হওয়া এবং পরে হামলার শিকার হওয়ায় পুলিশ মনোবল হারিয়েছে।

গত এক বছরে দেশজুড়ে মব বা দলবদ্ধ সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের ঘটনা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে পিটিয়ে হত্যা, মাদারীপুরে মসজিদে তিনজনকে খুন এবং খুলনায় যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে হত্যার মতো ঘটনাগুলো দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।

সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে সাবেক এক এমপির বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রিক অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘প্রথম শক্ত পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসুদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশনস) মো. রেজাউল করিম দাবি করেছেন, পুলিশ এখন সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে এসেছে।

তবে সমাজ অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদুল হক মনে করেন, সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় আনতে পারেনি এবং আইন প্রয়োগকারী বাহিনী অনেক ঘটনাতেই দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, “পুলিশের কাজ বিবৃতি দেওয়া নয়, ব্যবস্থা নেওয়া।”

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অবশ্য মিটফোর্ডের মতো আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ে করার আশ্বাস দিয়েছেন।

পাঠকপ্রিয়