মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

বাংলাদেশের কৌশলগত হাব হয়ে উঠছে চীনের কুনমিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভৌগোলিক নৈকট্য, বাণিজ্য সম্ভাবনা ও উন্নত চিকিৎসার সহজলভ্যতার কারণে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র হয়ে উঠছে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং। ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের বিকল্প হিসেবে চিকিৎসার নতুন গন্তব্য হওয়ার পাশাপাশি শহরটি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কূটনীতিরও কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। সম্প্রতি রোগীদের জন্য বিশেষ ভিসা চালু ও সরাসরি ফ্লাইট চালুর অনুমতির মতো উদ্যোগগুলো এই সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ‘গ্রিন চ্যানেল’ ভিসা সুবিধা চালু করায় চিকিৎসার গন্তব্য হিসেবে কুনমিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও নিউরোসার্জারির মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় শহরটির আধুনিক হাসপাতালগুলো একটি বিকল্প হয়ে উঠেছে। চলতি মাসেই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া একদল সাংবাদিক প্রতিনিধিদল সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, “চীনের সঙ্গে সংযোগের ক্ষেত্রে কুনমিং বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের স্থান। ভারতে যাতায়াত কমে যাওয়ায়, বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য, এখন লোকজন কুনমিং যাচ্ছেন। পর্যটন ও কেনাকাটার জন্যও এটি একটি পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠছে।”

অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও কুনমিংয়ের গুরুত্ব বাড়ছে। প্রতি বছর এখানে চায়না-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো আয়োজিত হয়, যা এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি বড় বাণিজ্য মঞ্চ। এছাড়া গত জুনে এখানেই চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় ইউনান প্রদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মার্চে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকালে কুনমিংকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করার আলোচনা হয়। সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকেও ঢাকা-কুনমিং রুটে ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়না স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. সামসাদ মর্তুজা মনে করেন, এই সম্পর্ক একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ইকোসিস্টেম’ তৈরি করছে। তিনি বলেন, “যখন প্রকৃত সেবা পাওয়া যায় তখন এর প্রভাব অন্য মাত্রার হয়ে ওঠে। চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে মানুষে মানুষে এই সংযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে এবং যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চীনের হাসপাতাল গড়ে ওঠারও সম্ভাবনা তৈরি করে।”

পাঠকপ্রিয়