চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একদিকে আকাশছোঁয়া বকেয়া আদায় করতে পারছে না, অন্যদিকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে একের পর এক বিদেশি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বন্ধ করে দিচ্ছে।
দেশি-বিদেশি ছয়টি এয়ারলাইন্সের কাছে বিমানবন্দরের পাওনা ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যার সিংহভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। গত ২৫ বছরে ১৭টি বিদেশি সংস্থার মধ্যে ১৫টিই চট্টগ্রাম থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছয়টি এয়ারলাইন্সের কাছে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছেই পাওনা ১ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। এছাড়া কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া রিজেন্ট এয়ারের কাছে ২৫২ কোটি, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে ৫৪ কোটি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে ২৯ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। চালু থাকা ইউএস-বাংলার কাছে ২ কোটি ৩৮ লাখ এবং নভোএয়ারের কাছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বকেয়া আছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো চট্টগ্রাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বছরে ৬ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও বিমানবন্দরটি প্রায় ১৭ লাখ যাত্রী ব্যবহার করছে। ফলে ইমিগ্রেশন ও লাগেজ বেল্টে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া, বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা খোলা না থাকায় অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স এখানে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী নয়।
২০০০ সাল থেকে থাই এয়ার, কুয়েত এয়ার, মালিন্দো এয়ার, সিল্ক এয়ারসহ ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইন্স পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট শুরু করলেও এখন তা মাত্র দুটিতে ঠেকেছে। সম্প্রতি ফ্লাইট বন্ধ করেছে স্পাইস জেট, জাজিরা এয়ারওয়েজ, ওমান এয়ার ও ফ্লাই দুবাই। বর্তমানে শুধু এয়ার এরাবিয়া ও সালাম এয়ার নামে দুটি বিদেশি সংস্থা চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, বকেয়া আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত চিঠি দেওয়া হচ্ছে। তবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের চিন্তা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপপরিচালক সাধন কুমার মোহন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “পরিচালক স্যার (গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর) ওমরাহ করতে সৌদি আরব গেছেন। এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন।”