শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের একমাত্র সরকারি কাচ কারখানা উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির বেসরকারি কারখানাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে লোকসানের ভারে জর্জরিত এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি এক টাকা আয় করতে এখন খরচ হচ্ছে প্রায় ২০ টাকা।
চট্টগ্রামের কালুরঘাটে অবস্থিত কারখানাটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মাত্র ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এর বিপরীতে কারখানার পরিচালনা ব্যয় হয়েছে ৪৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
শুধু গত দুই অর্থবছর নয়, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লাভের মুখ দেখেনি প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সর্বশেষ মুনাফা করার পর থেকে প্রতি বছর গড়ে ৮ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনেছে উসমানিয়া গ্লাস। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এর লোকসানের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি টাকা।
কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, ১৯৫৯ সালে উৎপাদনে আসা কারখানাটি পুরোনো যন্ত্রপাতি ও সেকেলে প্রযুক্তির কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে। বেসরকারি খাতের পিএইচপি, নাসির ও আকিজ গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নত মানের কাচ উৎপাদন করায় বাজারে উসমানিয়ার পণ্যের চাহিদা প্রায় নেই। ২০১৯ সালে একটি ফার্নেস (চুল্লি) বিকল হওয়া এবং ২০২০ সালে আগুনে আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট দ্বিতীয় ফার্নেসটির আয়ুষ্কাল শেষ হলে কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ১০৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) থেকে নেওয়া ঋণের টাকায়। গত জুন পর্যন্ত বিসিআইসির কাছে প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে উসমানিয়া গ্লাসের মোট দেনার পরিমাণ প্রায় ৬১ কোটি টাকা।
কারখানাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম আনিসুজ্জামান বলেন, “কারখানা চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে যে, বিদ্যমান পুরোনো প্রযুক্তি দিয়ে কারখানা চালু করলে লাভজনক হবে কিনা তা অনিশ্চিত।”
এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পুরোনো প্রযুক্তি দিয়ে উৎপাদনে ফিরে উসমানিয়া বাজারে টিকতে পারবে না। তার মতে, দায়দেনা মিটিয়ে এটিকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া অথবা সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা অন্য কোনো শিল্প গড়ে তোলা যেতে পারে।