গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া ৯৪৮টি অস্ত্রের মধ্যে ১৫৫টির এখনও হদিস পায়নি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। একই সময়ে লুট হওয়া ৭৯ হাজার ৮২৪টি কার্তুজের মধ্যে উদ্ধার হয়নি ১৯ হাজার ১৬৩টি।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার না হওয়া এসব ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র এখন নগরীতে ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে সিএমপির আটটি থানা ও আটটি ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করা হয়।
সিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লুট হওয়া ৯৪৮টি অস্ত্রের মধ্যে ৭৯৩টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও নিখোঁজ থাকা ১৫৫টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৮টি চায়না রাইফেল, ৮টি এসএমজি, ১৬টি চায়না পিস্তল, ৪২টি ৯ মিমি পিস্তল এবং ৫৫টি ১২ বোর শটগান। এছাড়াও ১ হাজার ১৯টি টিয়ার গ্যাস শেল ও গ্রেনেড এবং ১৯ হাজার ১৬৩টি বিভিন্ন ধরনের কার্তুজ ও গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার হয়নি।
পুলিশের তথ্যমতে, উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্র নগরীর অপরাধ জগতে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি অপরাধমূলক ঘটনায় এসব অস্ত্রের ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে।
চলতি বছরের ১৭ জুন নগরীর মেরিন সড়ক থেকে রুবেল নামে একজনকে যে পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়, সেটি থানা থেকে লুট হওয়া ছিল। গত বছরের ২৯ আগস্ট বায়েজিদ-হাটহাজারী এলাকায় মাসুদ কায়সার ও আনিস নামে দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যেখানে লুট হওয়া অস্ত্রের কার্তুজ ব্যবহৃত হয়।
একইভাবে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল ডবলমুরিং এলাকা থেকে আরিফ নামে একজনকে এবং ২১ জুলাই চান্দগাঁওয়ে গোলাগুলির ঘটনায় ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পো ও শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের লুট হওয়া অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মুখপাত্র এডিসি শ্রীমা চাকমা জানান, লুট হওয়া বাকি অস্ত্র উদ্ধারে সিএমপির বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে থানা পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত রুবেল, আরিফ, ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পো এবং শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যার মতো অপরাধীরা ধরা পড়েছে। নিহত মাসুদ কায়সার ও আনিসের ঘটনাতেও তদন্ত চলছে।