সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

সরকারি দপ্তরের কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আড়াই হাজার কোটি টাকা

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

বেসরকারি গ্রাহকদের বিল বকেয়া পড়লে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, কিন্তু সরকারি দপ্তরগুলো বছরের পর বছর বিল পরিশোধ না করেও বহাল তবিয়তে থাকছে। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের ৫৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া জমেছে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে—প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ৬১৫ কোটি টাকা এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ১৫৭ কোটি টাকা। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নামেও প্রায় চার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক যুগ ধরে চেষ্টা করেও সরকারি দপ্তরগুলো থেকে নিয়মিত বিল আদায় করতে পারেনি তারা। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক, বারবার চিঠি চালাচালি করেও কোনো সুফল মেলেনি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি; গত এক বছরে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় একই রয়ে গেছে।

অসহায় বিদ্যুৎ বিভাগ

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দফায় দফায় চিঠি দিলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, সরকারি দপ্তরের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলেও কিছু হবে না।”

তিনি বলেন, “বেসরকারি গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা গেলেও সরকারি দপ্তরে তা করা যায় না। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসা উচিত যে, বকেয়া থাকলে সরকারি দপ্তরের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা যাবে।”

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) পাওনা সবচেয়ে বেশি—৮২২ কোটি টাকা। এছাড়া ডেসকোর ৪৮০ কোটি, নেসকোর ৩৬২ কোটি, পিডিবির ৩৬৫ কোটি, বাপবিবোর ২০৫ কোটি এবং ওজোপাডিকোর ২০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে।

অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বকেয়া

অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ১০০ কোটি, জননিরাপত্তা ও সুরক্ষায় ৯৫ কোটি, প্রতিরক্ষায় ৯০ কোটি, শিক্ষায় ৮৬ কোটি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ে ৭০ কোটি টাকা।

এছাড়া জনপ্রশাসনে সাড়ে ২৩ কোটি, পানিসম্পদে ১৭ কোটি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ১৫ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৫ কোটি, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে সাড়ে ১৩ কোটি, প্রাথমিক শিক্ষায় সাড়ে ১২ কোটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগে ১০ কোটি, আইন ও বিচারে ১০ কোটি, যুব ও ক্রীড়ায় ৯ কোটি, তথ্য মন্ত্রণালয়ে সাড়ে ছয় কোটি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ে ১০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

আর্থিক সংকটে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগ একদিকে যেমন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি দপ্তরগুলো থেকে পাওনা আদায় করতে না পারায় তাদের সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

সরকারি দপ্তরের কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আড়াই হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:২৫

বেসরকারি গ্রাহকদের বিল বকেয়া পড়লে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, কিন্তু সরকারি দপ্তরগুলো বছরের পর বছর বিল পরিশোধ না করেও বহাল তবিয়তে থাকছে। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের ৫৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া জমেছে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে—প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ৬১৫ কোটি টাকা এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ১৫৭ কোটি টাকা। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নামেও প্রায় চার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক যুগ ধরে চেষ্টা করেও সরকারি দপ্তরগুলো থেকে নিয়মিত বিল আদায় করতে পারেনি তারা। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক, বারবার চিঠি চালাচালি করেও কোনো সুফল মেলেনি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি; গত এক বছরে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় একই রয়ে গেছে।

অসহায় বিদ্যুৎ বিভাগ

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দফায় দফায় চিঠি দিলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, সরকারি দপ্তরের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলেও কিছু হবে না।”

তিনি বলেন, “বেসরকারি গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা গেলেও সরকারি দপ্তরে তা করা যায় না। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসা উচিত যে, বকেয়া থাকলে সরকারি দপ্তরের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা যাবে।”

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) পাওনা সবচেয়ে বেশি—৮২২ কোটি টাকা। এছাড়া ডেসকোর ৪৮০ কোটি, নেসকোর ৩৬২ কোটি, পিডিবির ৩৬৫ কোটি, বাপবিবোর ২০৫ কোটি এবং ওজোপাডিকোর ২০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে।

অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বকেয়া

অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ১০০ কোটি, জননিরাপত্তা ও সুরক্ষায় ৯৫ কোটি, প্রতিরক্ষায় ৯০ কোটি, শিক্ষায় ৮৬ কোটি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ে ৭০ কোটি টাকা।

এছাড়া জনপ্রশাসনে সাড়ে ২৩ কোটি, পানিসম্পদে ১৭ কোটি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ১৫ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৫ কোটি, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে সাড়ে ১৩ কোটি, প্রাথমিক শিক্ষায় সাড়ে ১২ কোটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগে ১০ কোটি, আইন ও বিচারে ১০ কোটি, যুব ও ক্রীড়ায় ৯ কোটি, তথ্য মন্ত্রণালয়ে সাড়ে ছয় কোটি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ে ১০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

আর্থিক সংকটে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগ একদিকে যেমন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি দপ্তরগুলো থেকে পাওনা আদায় করতে না পারায় তাদের সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।