চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণ বিতরণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়লেও তা নির্ধারিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এই সময়ে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট সময়ে ব্যাংকগুলো মোট ৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। মূলত গত বছরের জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণ বিতরণ কম হয়েছিল।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মোট ৩৯ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে হিসাবে প্রথম দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১২.৩৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। জুলাই মাসে বিতরণ হয়েছে ২ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা এবং আগস্টে ২ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা।
শস্যে কম, গবাদিপশুতে ঋণ বেড়েছে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতরণ করা ঋণের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ গেছে শস্য উপখাতে। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় (৪৬ শতাংশ) এই উপখাতে ঋণ বিতরণ কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, গবাদিপশু ও পোল্ট্রি উপখাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে মোট ঋণের ২৯ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। মৎস্য উপখাতে ১৫ শতাংশ, দারিদ্র্য বিমোচনে ৫ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালায় ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঋণের ৫০ শতাংশ বিতরণ করতে বলা হয়েছে, যার মধ্যে শস্য উপখাতে ৫৫ শতাংশ (আগে ছিল ৬০%), প্রাণিসম্পদে ২০ শতাংশ (আগে ছিল ১৫%) এবং মৎস্যে ১৫ শতাংশ বিতরণের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।
গত অর্থবছরের চিত্র ও ঋণ আদায়
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ৩৮ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৭ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা (লক্ষ্যমাত্রার ৯৮.২৩%) কৃষিঋণ বিতরণ করেছিল। তার আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) লক্ষ্যমাত্রার ১০৬ শতাংশেরও বেশি ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয়েছিল। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার পেছনে জুলাই-আগস্টের অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সুদের হার বৃদ্ধি ও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটকে কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যাংকাররা।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কৃষিঋণ আদায়ও বেড়েছে। এই সময়ে মোট ৬ হাজার ৭৩ কোটি টাকার ঋণ আদায় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের (৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা) তুলনায় বেশি।
নতুন নীতিমালায় যেকোনো পরিমাণ কৃষিঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হলেও আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত সিআইবি চার্জ মওকুফ রাখা হয়েছে। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে চার্জ ডকুমেন্ট শিথিল করার কথাও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।