মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

২০০ কোটি টাকা বাঁচানোর প্রকল্পেই ‘গরমিল’, পুরোনো ভোগান্তিতেই ফিরল বিপিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইন প্রকল্প উদ্বোধনের এক মাসের মধ্যেই তেলের হিসাবে গরমিল, মজুতের জালিয়াতি ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়েছে। এর জেরে এক মাসের বেশি সময় ধরে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার পর অবশেষে আজ বুধবার ৫০ লাখ লিটার তেল সরবরাহের কথা রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুধু যমুনা অয়েল কোম্পানির ক্ষেত্রেই পৌনে চার লাখ লিটার ডিজেলের ঘাটতি ধরা পড়েছে।

বিপিসির একাধিক সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পাইপলাইনে তেল পাঠানো বন্ধ ছিল। সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর পদ্মা অয়েল কোম্পানি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার ৯০৭ লিটার তেল পাঠায়। এর আগে ৪ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেঘনা পেট্রোলিয়াম দুই দফায় ১ কোটি ৪৫ লাখ লিটার এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ৮ লাখ লিটার ডিজেল পাঠায়।

এক মাসের বেশি সময় তেল সরবরাহ বন্ধের পেছনে মূল কারণ হিসেবে তেল ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা ডিপোয় পৌঁছানোর পর পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের অন্তত ৫০ হাজার লিটার তেল কম পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি ধরা পড়ে যমুনা অয়েল কোম্পানির ক্ষেত্রে। ফতুল্লা ডিপোয় দুই দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল কম পাওয়া যায়। এসব ঘটনার পর পাইপলাইনে সরবরাহ বন্ধ করা হয়।

জানতে চাইলে বিপিসির পরিচালক (অপারেশনস) এ কে এম আজাদুর রহমান বলেন, “কিছু ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে। তেলের হিসাবে গরমিলও পাওয়া গেছে। কয়েকটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। ত্রুটি ঠিক হলে পুরোদমে সরবরাহ শুরু হবে।”

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তেলের হিসাবে গরমিল, ট্যাংক মজুতের সক্ষমতা জালিয়াতি ও পরিমাপে ত্রুটি ধরা পড়েছে। এসব কারণে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। সরবরাহ বন্ধ থাকায় তেল পুরোনো পদ্ধতিতেই—নদী, রেল ও সড়কপথে ঢাকায় আনা হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে এবং অপচয় ও চুরির ঝুঁকি পুরোনো অবস্থায় ফিরেছে।

৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০১৬ সালে নেওয়া হয়। গত ২২ জুন পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরুর পর ১৬ আগস্ট এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে সেনাবাহিনী, কিন্তু বিপিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প বুঝে নেয়নি। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ হস্তান্তরের আগেই বিপুল ব্যয়ে নির্মিত পাইপলাইন চালু করা হলে এসব গলদ ধরা পড়ে।

বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে বছরে গড়ে ৬৫ লাখ টন তেলের চাহিদা, যার ৪০ শতাংশই ঢাকা বিভাগে ব্যবহৃত হয়। পাইপলাইন চালুর আগে পতেঙ্গা থেকে নদীপথে নারায়ণগঞ্জের ডিপো এবং সেখান থেকে সড়কপথে ঢাকায় তেল পৌঁছানো হতো। এজন্য মাসে প্রায় ১৫০টি ছোট-বড় জাহাজ লাগত এবং বছরে পরিবহন বাবদ খরচ হতো প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এই ব্যয় কমানো, চুরি ও অপচয় ঠেকানো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল।

পাঠকপ্রিয়