সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে বন্যহাতির আক্রমণে আতঙ্ক, দ্বন্দ্বের অবসান কবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার দেয়াং পাহাড়ের আশপাশের এলাকায় মানুষ ও বন্যহাতির মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

হাতির চলাচলের পথ দখল করে ইমারত, রাস্তা ও বাগান তৈরির ফলে পাহাড়ে হাতির খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে, যার কারণে হাতিরা লোকালয়ে এসে মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। গত ছয় বছরে এ দ্বন্দ্বে ২০ জনের প্রাণহানি, অর্ধশতাধিক আহত এবং দেড় শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দক্ষিণ শাহমীরপুর গ্রামের সুন্দরী পাড়া এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে মো. আকবর (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগের দিন সোমবার রাত ১০টায় আনোয়ারা উপজেলার বটতলী আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় হাতির আক্রমণে হালিমা খাতুন (৫৫) নামের এক নারী মারা যান।

স্থানীয়দের মতে, হালিমা খাতুন সন্তানদের নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে থাকতেন। সোমবার রাত ১০টায় তিনি অন্য ঘরে যাওয়ার সময় নিজের ঘরের সামনে একটি বন্যহাতির মুখোমুখি হন। হাতিটি তাকে আক্রমণ করে এবং শুঁড়ে তুলে আছাড় মারলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, হাতিরা তাদের পূর্বপুরুষের আবাসস্থল ছাড়তে চায় না। তাদের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে লোকালয়ে এসে আক্রমণ করছে। বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাতিগুলোর স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলেও তাতে সাফল্য আসেনি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকারিভাবে কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাছির মিয়া জানান, হাতিরা প্রায়ই লোকালয়ে এসে ফসলের ক্ষতি করছে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে এবং মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। হাতি আক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্নিতা ভট্টাচার্য বলেন, হাতিদের নিজস্ব করিডোরে বাধা সৃষ্টি করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে লোকালয়ে আসছে। সমস্যা সমাধানে হাতিদের খাদ্য সংকট দূর করতে হবে এবং তাদের চলাচলের পথ নিরাপদ রাখতে হবে।

অন্যদিকে, কেইপিজেড এলাকায়ও হাতির আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে (কেইপিজেড) হাতির আক্রমণে হিউন ক্যাং নামে এক কোরিয়ান বিনিয়োগকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ বারবার হাতিগুলোর স্থানান্তরের জন্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাতে সাড়া মেলেনি।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হাতিগুলোর জন্য বনে পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা করা হলে তারা লোকালয়ে আসবে না। এছাড়া হাতি প্রতিরোধ ও আক্রমণ এড়াতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

পাঠকপ্রিয়