দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পর অবশেষে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহকে অপসারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে “পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ এর ধারা ২ক” অনুসারে ফজলুল্লাহর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে তাকে এমডি পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এই পদে সাময়িকভাবে স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অধ্যাদেশের ২৮ ক অনুযায়ী স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালককে তাঁর নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে সাময়িকভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করা হলো। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিধি মোতাবেক দায়িত্ব ভাতা পাবেন। দুটি প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব মো. আবদুর রহমান।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, পানি চুরি, প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ না হওয়া, প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনা সহ সব অনিয়মের তদন্ত করতে চট্টগ্রামে আসেন স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান।
প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে টানা ৬ দফায় চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি পদে ছিলেন ফজলুল্লাহ। ওয়াসার প্রতিটি ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অপরাধের কারণে বৈষম্যবিরোধী সাধারণ নাগরিক সমাজ তার পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছিল।
জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে ওয়াসায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন ফজলুল্লাহ। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৮ সালে অবসর নেন। চাকরি জীবনে অনিয়মের কারণে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান তিনি। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ড পুনর্গঠন করে এমডি পদ তৈরি করা হয়। প্রথমে তিন মাসের জন্য এমডির দায়িত্ব পেলেও পরে টানা পাঁচ দফায় পুনর্নিয়োগ পেয়ে ১৩ বছর ধরে এ পদে বহাল ছিলেন ফজলুল্লাহ।
২০২০ সালের অক্টোবরে তার পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে হাসান আলী নামে এক গ্রাহক রিট আবেদন করেছিলেন।