চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ইপিজেড এলাকায় অবশেষে র্যাম্প নির্মাণ শুরু হচ্ছে। গতকাল এক্সপ্রেসওয়ের এ্যালাইনমেন্টে থাকা ৬০টি দোকান উচ্ছেদ করে র্যাম্প নির্মাণের জায়গা করে নেয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে র্যাম্প নির্মাণের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে বলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সূত্রে জানানো হয়েছে।
নগরীর যান চলাচলে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ৪,২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬.৫ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ফ্লাইওভারে যানবাহনের সুবিধার্থে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে র্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে টাইগার পাসের আমবাগান রোড এবং লালখান বাজারে র্যাম্প নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
জিইসি মোড়ের র্যাম্প নির্মাণকাজ বাওয়া স্কুলের ছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে এক মাসের বেশি সময় বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ছাত্রীদের র্যাম্পটির গুরুত্ব বুঝানোর পর তারা আন্দোলন থেকে সরে আসলে র্যাম্প নির্মাণের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। এর আগে, টাইগার পাসের কদমতলীমুখী র্যাম্প নির্মাণের কাজ গাছ কাটার কারণে আন্দোলনের মুখে বন্ধ করে দেয় সিডিএ।
নগরীর ইপিজেড এলাকায় শহর থেকে নামার র্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। কিন্তু ইপিজেড মুখের তরকারি বাজারের পাশের দোকানগুলোর জন্য কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছিল না। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এ্যালাইনমেন্টের ভিতরে থাকা দোকানগুলো সরিয়ে নেয়ার জন্য দফায় দফায় বলা হলেও ব্যবসায়ীরা দোকান সরায়নি। এতে করে সিডিএ র্যাম্প নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েও কাজ শুরু করতে পারছিল না। অবশেষে গতকাল দিনভর অভিযান চালিয়ে সিডিএ ঐ স্থানের ৬০টি দোকান উচ্ছেদ করে।
এই র্যাম্প ব্যবহার করে শহরের দিক থেকে যাওয়া গাড়ি ইপিজেডে নামতে পারবে। অপরদিকে ইপিজেডের ভিতর থেকে শহরের দিকে আসার জন্য একটি র্যাম্প এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যুক্ত হবে।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বেগম তাহমিনা আফরোজ চৌধুরী। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের নির্দেশে র্যাম্প নির্মাণের অংশে অবৈধ দোকানসহ অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, “দোকানগুলো র্যাম্প নির্মাণের অন্তরায় ছিল। আমরা সেগুলো উচ্ছেদ করেছি। এখন র্যাম্প নির্মাণে আর কোনো বাধা নেই।”
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে ৩,২৫০ কোটি ৮৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হলেও পরে ব্যয় বেড়ে ৪,২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং পরীক্ষামূলক যান চলাচল শুরু হয়েছে।