মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

কাগজের আড়ালে নকল স্ট্যাম্প: রহস্য উন্মোচনে পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক

কাগজ ঘোষণা দিয়ে এক কোটি ৬২ লাখ পিস সিগারেটের নকল স্ট্যাম্প আমদানির ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়েছে সিআইডি। তিন বছরের দীর্ঘ তদন্তেও ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূলহোতা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর থানায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম জাকারিয়া বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় রামপুর আরাফাত এন্টারপ্রাইজের মালিক আরাফাত হোসেনসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন হালিশহরের রামপুর এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেন (৪১), হালিশহরের শান্তিবাগের শ্যামলী আবাসিক এলাকার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে বাহারুল ইসলাম, রামপুর বউ বাজার এলাকার নিজাম উদ্দিন হায়দারের ছেলে মেজবাহ উদ্দিন হায়দার ও মিরসরাইয়ের পূর্ব মিঠানালা গ্রামের আলতাফ আলীর ছেলে সরোয়ার আলী।

অভিযুক্তদের মধ্যে বাহারুল ইসলাম গ্রেপ্তার হলেও বাকি তিনজন এখনো পলাতক।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, চীনের দিঘি এন্টি ফেইক কোং লি. থেকে এ ফোর পেপার ঘোষণায় এক কন্টেইনার কাগজ আমদানি করেন আরাফাত হোসেন। মধুমতি এসোসিয়েটস লি. নামে একটি সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে পণ্যগুলো ছাড় করানোর কথা ছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কন্টেইনারটি আসে এবং ২২ ডিসেম্বর শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় কন্টেইনারে থাকা ১২টি প্যাকেটের মধ্যে লুকানো অবস্থায় এক কোটি ৬২ লাখ পিস সিগারেটের নকল স্ট্যাম্প পাওয়া যায়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আরাফাত হোসেন এর আগেও কাগজ ঘোষণা দিয়ে আরও ছয়বার চীনের একই কোম্পানি থেকে একই কায়দায় পণ্য আমদানি করেছেন। প্রতিবার মধুমতি এসোসিয়েটস লি. নামের একই সিএন্ডএফ এজেন্ট পণ্যগুলো ছাড় করে।

উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী সিগারেটের স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হয়।

দীর্ঘ তদন্তের পর সিআইডির পরিদর্শক মো. মেহেদী মাকসুদ ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আরাফাত হোসেন ছয়বার চীনের একই রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য আমদানি করেছেন। প্রত্যেকবার মধুমতি এসোসিয়েটস লিমিটেড সহযোগিতা করেছে। মধুমতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাহারুল ইসলামের আত্মীয় কাস্টমস কাম জেটি সরকার সরোয়ার আলি।

এছাড়াও বাপ্পু এন্টারপ্রাইজ নামে আরেকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান একই ধরনের পণ্য আমদানি করেছিল।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাহারুল ইসলাম জানান, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজের পরিচালনাসহ ব্যাংকিং কাজগুলো করতো হালিশহরের বউবাজার এলাকার মেজবাহ উদ্দিন হায়দার। মূলত আরাফাত এন্টারপ্রাইজের পক্ষে মেজবাহ ও আরাফাত দুইজনে মিলে ব্যাংক থেকে ইমপোর্ট করার কাগজপত্রের কাজগুলো করতো।

তদন্তে ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল সিন্ডিকেট শনাক্তে ব্যর্থ হওয়ায় মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

পাঠকপ্রিয়