সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

পাকিস্তানের সঙ্গে জাহাজ চালুর ফলে বাংলাদেশের লাভ কতটা?

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন পর সরাসরি কনটেইনার জাহাজ পরিষেবা চালু হয়েছে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ‘এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

এই জাহাজ পরিষেবা চালুর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আহমেদ মারুফ একে “দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তবে, ব্যবসায়ী মহলে এই নতুন পরিষেবা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ খুবই কম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে মাত্র ৭৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে।

এর মধ্যে সুতা-কাপড়, প্রস্তুত চামড়া, ক্লিংকার, ফল, শুঁটকি প্রভৃতি পণ্য উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬ কোটি ২৪ লাখ ডলারের পণ্য।

এ পরিস্থিতিতে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ পরিষেবা লাভজনক হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিপিং ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাকিস্তান থেকে মাসে সর্বোচ্চ দেড় হাজার কনটেইনারে পণ্য আমদানি হয়। এই পরিমাণ পণ্য পরিবহনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জাহাজ পরিষেবা লাভজনক নাও হতে পারে।

তবে, সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি শিথিল করায় আশা করা হচ্ছে যে ভবিষ্যতে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এই আশা থেকেই নতুন এই জাহাজ পরিষেবা চালু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দুবাইভিত্তিক ‘ফিডার লাইনস ডিএমসিসি’ নামের একটি সংস্থা এই জাহাজ পরিষেবা চালু করেছে। বাংলাদেশে এই সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধি হলো রিজেনসি লাইনস লিমিটেড।

এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং জাহাজটি শুধু পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যেই পণ্য আনা-নেওয়া করবে না, এটি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরগুলোতেও যাতায়াত করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম যাত্রায় জাহাজটি পাকিস্তান থেকে ৩৭০টি কনটেইনার নিয়ে এসেছে এবং চট্টগ্রাম থেকে ২৮৯টি কনটেইনার নিয়ে গেছে। এর মধ্যে পণ্যবাহী কনটেইনার ছিল মাত্র একটি যা মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং গন্তব্যে রওনা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

পাকিস্তানের সঙ্গে জাহাজ চালুর ফলে বাংলাদেশের লাভ কতটা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ নভেম্বর ২০২৪, ১৪:৩৪

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন পর সরাসরি কনটেইনার জাহাজ পরিষেবা চালু হয়েছে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ‘এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

এই জাহাজ পরিষেবা চালুর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আহমেদ মারুফ একে “দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তবে, ব্যবসায়ী মহলে এই নতুন পরিষেবা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ খুবই কম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে মাত্র ৭৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে।

এর মধ্যে সুতা-কাপড়, প্রস্তুত চামড়া, ক্লিংকার, ফল, শুঁটকি প্রভৃতি পণ্য উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬ কোটি ২৪ লাখ ডলারের পণ্য।

এ পরিস্থিতিতে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ পরিষেবা লাভজনক হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিপিং ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাকিস্তান থেকে মাসে সর্বোচ্চ দেড় হাজার কনটেইনারে পণ্য আমদানি হয়। এই পরিমাণ পণ্য পরিবহনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জাহাজ পরিষেবা লাভজনক নাও হতে পারে।

তবে, সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি শিথিল করায় আশা করা হচ্ছে যে ভবিষ্যতে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এই আশা থেকেই নতুন এই জাহাজ পরিষেবা চালু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দুবাইভিত্তিক ‘ফিডার লাইনস ডিএমসিসি’ নামের একটি সংস্থা এই জাহাজ পরিষেবা চালু করেছে। বাংলাদেশে এই সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধি হলো রিজেনসি লাইনস লিমিটেড।

এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং জাহাজটি শুধু পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যেই পণ্য আনা-নেওয়া করবে না, এটি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরগুলোতেও যাতায়াত করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম যাত্রায় জাহাজটি পাকিস্তান থেকে ৩৭০টি কনটেইনার নিয়ে এসেছে এবং চট্টগ্রাম থেকে ২৮৯টি কনটেইনার নিয়ে গেছে। এর মধ্যে পণ্যবাহী কনটেইনার ছিল মাত্র একটি যা মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং গন্তব্যে রওনা হয়েছে।