মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে নভেম্বরে ডেঙ্গুর উর্ধ্বগতি: মৃত্যুহারে উদ্বেগ, কসমোপলিটন সাব-ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ৮৮%

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার নিম্নমুখী থাকলেও চলতি বছর এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নভেম্বরের অর্ধেক সময় পার হতে না হতেই মৃত্যুহার পুরো বছরের যেকোনো মাসকে ছাড়িয়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, ডেন-২ ভ্যারিয়েন্টের সাব-ভ্যারিয়েন্ট কসমোপলিটন এর জন্য দায়ী।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবদুর রব জানান, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৮৮ শতাংশই ডেন-২ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ আবার ডেন-২ ভ্যারিয়েন্টের সাব-ভ্যারিয়েন্ট কসমোলিটনে আক্রান্ত। এই সাব-ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং রক্তচাপ কমে গিয়ে অনেকে শকে চলে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার গত বছরের তুলনায় কম। তবে চমেক হাসপাতালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে অনেক রোগী ডেন-২ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছে।

গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৮৯ জন। এর মধ্যে নগরীতে আক্রান্ত ২ হাজার ৩৯১ জন এবং উপজেলায় ১ হাজার ২৯৮ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের, যার মধ্যে ২০ জন নারী। চলতি নভেম্বর মাসে গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত ৭৫৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু জ্বর কমার পরের সময়টা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি, পেট ব্যথা, পাতলা পায়খানা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লালচে দাগ, প্রস্রাব-পায়খানায় রক্ত দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৪ হাজার ৮৭ জন এবং মারা যান ১০৭ জন।

পাঠকপ্রিয়