মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

বহুল প্রত্যাশিত বে টার্মিনাল: নতুন বছরেই শুরু হচ্ছে নির্মাণকাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুল প্রত্যাশিত বে টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে নতুন বছরের প্রথমেই। আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ডিটেইল প্রজেক্ট প্রোফাইল (ডিপিপি) চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক থেকে। প্রকল্পের কাজের জন্য বিশ্বব্যাংকের ইতোপূর্বে দেয়া ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধা চুক্তিও শীঘ্রই সম্পাদন হতে পারে বলে জানা গেছে।

দেশে ক্রমাগত বাড়ছে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য। বাড়ছে বন্দরের চাহিদা। বিদ্যমান চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা দিয়ে দেশের আগামী কয়েক বছর পরের চাহিদা মেটানোও সম্ভব হবে না। এই অবস্থায় হালিশহরের সমুদ্র উপকূলে জেগে উঠা একটি চরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বে টার্মিনালের সম্ভাবনা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নানাভাবে যাচাই-বাছাই করে বে টার্মিনাল নির্মিত হলে দেশের আগামী একশ’ বছরের চাহিদা মোকাবেলা করতে পারবে বলে নিশ্চিত হয়।

জার্মানির হ্যামবুর্গ পোর্ট কনসাল্টিংয়ের মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রাক–সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে। পরবর্তীতে ২০২১ সালে কোরিয়ান কোম্পানি কুনহওয়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ সম্পন্ন করে। চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বে টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রেকওয়াটার (সাগরে পাথরের বাঁধ) এবং সাত কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল ১৪ মিটার গভীর করে খনন করার পরামর্শ দেয়।

তিনটি টার্মিনালের অবকাঠামো, চ্যানেল এবং ব্রেকওয়াটার মিলে পুরো বে–টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার। বে টার্মিনালের ১ ও ২ নম্বর টার্মিনাল পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বিদেশী অপারেটর দিয়ে নির্মাণ ও পরিচালনা করা হবে। ৩ নম্বর টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করবে।

বিদেশী অপারেটরেরা প্রকল্পটিতে টার্মিনালের অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিচালনার ব্যাপারে আগ্রহী হলেও কেউই চ্যানেল খনন এবং ব্রেকওয়াটার নির্মাণে বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। এক্ষেত্রে এগিয়ে আসে বিশ্বব্যাংক। গত জুন মাসে বিশ্বব্যাংক ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করে। এই ঋণের জন্য চুক্তি সম্পাদন আগামী মাস দুয়েকের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

বে টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের স্বার্থেই জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা দরকার বলে সকলে একমত হয়েছেন।

বে টার্মিনাল প্রকল্প সম্পর্কে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ঢাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে। সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করলেও কিছু বিলম্ব হয়েছে। চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আগামী মাসে একনেকের অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী বছরেই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে বলেও ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান।

উল্লেখ্য, বিদ্যমান চট্টগ্রাম বন্দর একটি জোয়ার-ভাটা নির্ভর নদীকেন্দ্রিক ফিডার পোর্ট। বে টার্মিনাল নির্মিত হলে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের, সাড়ে ১১ থেকে ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ রাতে-দিনে যখন তখন বার্থিং নিতে পারবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঠকপ্রিয়