সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

কর্ণফুলী টানেলের পরও অবহেলিত পারকি সৈকত: উন্নয়নের আশ্বাসে ক্লান্ত স্থানীয়রা

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

কর্ণফুলী টানেল চালুর আগে থেকেই পারকি সৈকতকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। টানেল চালুর পর পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু পর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধা না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় দিন দিন এর জনপ্রিয়তা কমছে। সৈকতে প্রবেশের রাস্তা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, বিনোদন সুবিধা সবকিছুই অপ্রতুল। ঝাউ বাগানের সারিও নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে পরিচর্যার অভাবে। ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পর্যটন কমপ্লেক্সটির কাজের মান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে শত শত ঝাউ গাছ বিলীন হচ্ছে। নানা অব্যবস্থাপনায় দিন দিন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ছে সৈকতটি। স্থানীয়রা জানান, টানেল দেখতে এসে পারকিতে বেড়াতে আসেনি এমন পর্যটক কমই আছে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকতের চরে মাদকের বেচাকেনা বেড়েছে। বখাটেদের উৎপাতও লক্ষণীয়। পারকি বীচের প্রধান সড়কটি এখনো সরু। যানজট লেগেই থাকে। সৈকতে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য নির্মিত ৪টি সড়কের বেহাল দশা। গাড়ি পার্কিংয়েরও সমস্যা রয়েছে।

সম্প্রতি নির্মিত ওয়াশরুমগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। নেই কোনো আবাসন ব্যবস্থা। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ থাকে না। মাদক ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

পারকিতে বেড়াতে আসা পর্যটক রহিম বলেন, “পারকি সৈকতের বিনোদনের মূল উপকরণ হচ্ছে ঝাউ গাছ। অথচ গাছগুলো দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবকিছুতেই ঘাটতি আছে।”

এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, পারকি সমুদ্র সৈকতের উন্নয়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু হচ্ছে। পারকি সৈকতকে জনপ্রিয় করে তুলতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

কর্ণফুলী টানেলের পরও অবহেলিত পারকি সৈকত: উন্নয়নের আশ্বাসে ক্লান্ত স্থানীয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৫২

কর্ণফুলী টানেল চালুর আগে থেকেই পারকি সৈকতকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। টানেল চালুর পর পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু পর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধা না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় দিন দিন এর জনপ্রিয়তা কমছে। সৈকতে প্রবেশের রাস্তা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, বিনোদন সুবিধা সবকিছুই অপ্রতুল। ঝাউ বাগানের সারিও নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে পরিচর্যার অভাবে। ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পর্যটন কমপ্লেক্সটির কাজের মান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে শত শত ঝাউ গাছ বিলীন হচ্ছে। নানা অব্যবস্থাপনায় দিন দিন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ছে সৈকতটি। স্থানীয়রা জানান, টানেল দেখতে এসে পারকিতে বেড়াতে আসেনি এমন পর্যটক কমই আছে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকতের চরে মাদকের বেচাকেনা বেড়েছে। বখাটেদের উৎপাতও লক্ষণীয়। পারকি বীচের প্রধান সড়কটি এখনো সরু। যানজট লেগেই থাকে। সৈকতে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য নির্মিত ৪টি সড়কের বেহাল দশা। গাড়ি পার্কিংয়েরও সমস্যা রয়েছে।

সম্প্রতি নির্মিত ওয়াশরুমগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। নেই কোনো আবাসন ব্যবস্থা। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ থাকে না। মাদক ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

পারকিতে বেড়াতে আসা পর্যটক রহিম বলেন, “পারকি সৈকতের বিনোদনের মূল উপকরণ হচ্ছে ঝাউ গাছ। অথচ গাছগুলো দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবকিছুতেই ঘাটতি আছে।”

এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, পারকি সমুদ্র সৈকতের উন্নয়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু হচ্ছে। পারকি সৈকতকে জনপ্রিয় করে তুলতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।