সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

মানব পাচার মামলায় সাজার হার কম, বিচারহীনতার অবসান কবে?

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

ইতালিতে উচ্চাভিলাষী জীবনের স্বপ্ন দেখে লিবিয়ার বন্দিদশা থেকে ২৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরেছেন গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার শামীম হোসেন (২৩)।

গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর দালাল চক্রের প্রলোভনে বাংলাদেশ থেকে দুবাই পাঠানো হয় তাকে। সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ার বেনগাজি শহরে নিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দীর্ঘ ১৫ মাস বন্দি থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরতে পেরেছেন এই যুবক।

“জীবন নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছি, এটা এখন স্বপ্নের মতো লাগে,” বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শামীম।

শামীমের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ পাচারের শিকার হচ্ছে। দালালরা বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি ও ভালো থাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলে। লিবিয়া ও মরক্কো মানব পাচারের প্রধান গন্তব্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে মানব পাচারের ৪ হাজার ১৪১টি মামলা তদন্তাধীন ও বিচারাধীন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৯২৪টি নতুন মামলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিচারে ধীরগতি ও কম সাজার চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মানব পাচারের ৩৩৬টি মামলার মধ্যে মাত্র ১৯টিতে ৫০ জনের সাজা হয়েছে। বাকি ৩১৭টি মামলায় ১ হাজার ১৭৮ জন আসামি খালাস পেয়েছেন।

গত ছয় বছরে (২০১৯-২০২৪) ৩ হাজার ৫৫৯টি নতুন মামলার বিপরীতে মাত্র ৮৬৪টিতে রায় হয়েছে। এই সময়ে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়নি। ২৪ জনকে যাবজ্জীবন ও ১২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। ৩ হাজার ৩২ জন আসামি খালাস পেয়েছে।

শামীম হোসেন জানান, প্রতিবেশী আকরাম হোসেন ও তার স্ত্রী শিখা বেগম তাকে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যরা হলেন শিখার ভাই ইতালিপ্রবাসী বিল্লাল হোসেন ও দেবর নাজমুল হোসেন। দুবাই, মিসর ও লিবিয়াতেও এই চক্রের সদস্য রয়েছে।

শামীমের বাবা রজব আলী জানান, ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

পুলিশের মুখপাত্র পুলিশ সুপার এনামুল হক সাগর জানান, আসামির সাজা না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো যথাসময়ে সাক্ষী হাজির না হওয়া ও বাদী-বিবাদীর মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা।

তিনি আরও জানান, জিম্মি হওয়া ব্যক্তি যদি দেশের ভেতরে থাকে, তাহলে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে দেশের বাইরে ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

মানব পাচার মামলায় সাজার হার কম, বিচারহীনতার অবসান কবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৪০

ইতালিতে উচ্চাভিলাষী জীবনের স্বপ্ন দেখে লিবিয়ার বন্দিদশা থেকে ২৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরেছেন গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার শামীম হোসেন (২৩)।

গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর দালাল চক্রের প্রলোভনে বাংলাদেশ থেকে দুবাই পাঠানো হয় তাকে। সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ার বেনগাজি শহরে নিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দীর্ঘ ১৫ মাস বন্দি থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরতে পেরেছেন এই যুবক।

“জীবন নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছি, এটা এখন স্বপ্নের মতো লাগে,” বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শামীম।

শামীমের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ পাচারের শিকার হচ্ছে। দালালরা বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি ও ভালো থাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলে। লিবিয়া ও মরক্কো মানব পাচারের প্রধান গন্তব্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে মানব পাচারের ৪ হাজার ১৪১টি মামলা তদন্তাধীন ও বিচারাধীন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৯২৪টি নতুন মামলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিচারে ধীরগতি ও কম সাজার চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মানব পাচারের ৩৩৬টি মামলার মধ্যে মাত্র ১৯টিতে ৫০ জনের সাজা হয়েছে। বাকি ৩১৭টি মামলায় ১ হাজার ১৭৮ জন আসামি খালাস পেয়েছেন।

গত ছয় বছরে (২০১৯-২০২৪) ৩ হাজার ৫৫৯টি নতুন মামলার বিপরীতে মাত্র ৮৬৪টিতে রায় হয়েছে। এই সময়ে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়নি। ২৪ জনকে যাবজ্জীবন ও ১২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। ৩ হাজার ৩২ জন আসামি খালাস পেয়েছে।

শামীম হোসেন জানান, প্রতিবেশী আকরাম হোসেন ও তার স্ত্রী শিখা বেগম তাকে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যরা হলেন শিখার ভাই ইতালিপ্রবাসী বিল্লাল হোসেন ও দেবর নাজমুল হোসেন। দুবাই, মিসর ও লিবিয়াতেও এই চক্রের সদস্য রয়েছে।

শামীমের বাবা রজব আলী জানান, ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

পুলিশের মুখপাত্র পুলিশ সুপার এনামুল হক সাগর জানান, আসামির সাজা না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো যথাসময়ে সাক্ষী হাজির না হওয়া ও বাদী-বিবাদীর মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা।

তিনি আরও জানান, জিম্মি হওয়া ব্যক্তি যদি দেশের ভেতরে থাকে, তাহলে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে দেশের বাইরে ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।