চট্টগ্রাম থেকে জনশক্তি রপ্তানি উদ্বেগজনক হারে কমছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। চলতি বছরের প্রথম ১১ মাস ১৫ দিনে চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ৩৮ হাজার ১৪২ জন বিদেশে গেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম।
জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সৌদি আরবে গেছেন ১৯ হাজার ৮১৭ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২ হাজার কম। ওমানে এই সংখ্যা আরও উদ্বেগজনক, গত বছর যেখানে ১৯ হাজার ৮৭০ জন গিয়েছিলেন, সেখানে এ বছর গেছেন মাত্র ৩ হাজার ৪৩০ জন।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাজার সম্প্রসারণে যথাযথ ভূমিকা থাকলে চট্টগ্রামের প্রবাসীরা আরও বেশি অবদান রাখতে পারতেন।
বিশেষজ্ঞরা বন্ধ শ্রমবাজারগুলো চালু করার দিকে জোর দিয়েছেন। তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত ইমেজকে কাজে লাগিয়ে দেশে দেশে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বেশ কিছু ইস্যুতে বাংলাদেশের ইমেজ কিছুটা সংকটে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ভিসা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। বাহরাইন বহুদিন ধরে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদান বন্ধ রেখেছে।
এদিকে, সরকারি হিসেবে বর্তমানে ৫০ লাখ ৫৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক প্রবাসী, যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী চট্টগ্রাম বিভাগের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত চট্টগ্রাম বিভাগের নাগরিকের সংখ্যা ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৫২ জন।
২০২৩ সালে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন ২১.৯২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চট্টগ্রামে প্রবাসী আয় এসেছিল ৫৯৬ কোটি ডলার, যা দেশের মোট রেমিটেন্সের প্রায় ২৮ শতাংশ।
এ অবস্থায়, বন্ধ শ্রমবাজার চালুসহ বাজার সম্প্রসারণের জন্য সরকারের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
বেসরকারি খাতে কর্মী পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসছে। মূলত সৌদি আরবেই কর্মী যাচ্ছেন, অন্যান্য দেশের বাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা কমছে।
একই সাথে অভিবাসন বিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রামরু জানিয়েছে, একক দেশ নির্ভরতা বাংলাদেশের শ্রম বাজারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি নির্দিষ্ট দেশে কর্মী যাওয়া শুরু হলে কিছুদিন পর নানা সমস্যা তৈরি হয় এবং ঐ শ্রম বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়।
এ অবস্থায়, শ্রম বাজারে বৈচিত্র্য আনতে জোর দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. রুহুল আমিন। তিনি জানান, ব্রুনাই এবং রাশিয়ার শ্রম বাজার চালু করা হয়েছে এবং মালয়েশিয়ার বাজার চালু করতে শিগগিরই সভা হবে।
রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার তাসনিম সিদ্দিকী বলেছেন, একক শ্রম বাজারের উপর নির্ভরতা একটি বড় দুর্বলতা। তিনি বর্তমান সরকারকে এই ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, বায়রার মহাসচিব সৌদি আরবের সাথে কারিগরি কমিটির সভা করে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।