সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাৎ: এস আলমের ছেলেসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

ইসলামী ব্যাংকের চাক্তাই শাখা থেকে মাত্র ২১ দিনে একজন গ্রাহককে ৮৯০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। ঋণের পুরোটাই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ডপত্র তৈরি করে ঐ গ্রাহক সবমিলে ১ হাজার ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এ ঘটনায় ২১ দিনের সেই গ্রাহক ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলমসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে ৩৩ জন ব্যাংক কর্মকর্তা ও ২৫ জন ব্যবসায়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ইয়াছিন আরাফাত।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম সরোয়ার চৌধুরী ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর ইসলামী ব্যাংক চাকতাই শাখায় হিসাব খোলার পর ২৯ নভেম্বর ৮৯০ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন। ঋণ আবেদনের উদ্দেশ্য যাচাই–বাছাই, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা পণ্য সংরক্ষণের গোডাউন, মালিকের ব্যবসায়িক চরিত্র, বৈশিষ্ট্য, ব্যবসায়িক মূলধন, আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসার বর্তমান অবস্থা, সম্পদ ও দায় পর্যালোচনা না করেই গ্রাহকের আবেদনটি পরের মাসেই অনুমোদন করা হয়। অথচ মিথ্যা বানোয়াট তথ্যের উপর ভিত্তি করে ঋণের আবেদনটি করা হয়েছিল।

ঋণ বিতরণের সময় বিভিন্ন ব্যাংকে গ্রাহকের বিপুল অংকের ঋণ থাকলেও সে বিষয়টি নিয়ে কোনো আপত্তি বা কোয়ারি করা হয়নি, এমনকি সেসকল ব্যাংকের অনাপত্তি নেয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তাও আমলে নেয়া হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ ক্রেডিট রেটিংয়ের উপর ভিত্তি করেই মাত্র ২১ দিনে একজন গ্রাহককে ৮৯০ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে, যার বিপরীতে জামানতের পরিমাণ বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের মাত্র ২৭০ কোটি টাকার এমটিডিআর।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল–জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ডপত্র তৈরি করে মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের নামে বিশাল অংকের এ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরকেও আমলে নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাৎ: এস আলমের ছেলেসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৪:৪৮

ইসলামী ব্যাংকের চাক্তাই শাখা থেকে মাত্র ২১ দিনে একজন গ্রাহককে ৮৯০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। ঋণের পুরোটাই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ডপত্র তৈরি করে ঐ গ্রাহক সবমিলে ১ হাজার ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এ ঘটনায় ২১ দিনের সেই গ্রাহক ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলমসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে ৩৩ জন ব্যাংক কর্মকর্তা ও ২৫ জন ব্যবসায়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ইয়াছিন আরাফাত।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম সরোয়ার চৌধুরী ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর ইসলামী ব্যাংক চাকতাই শাখায় হিসাব খোলার পর ২৯ নভেম্বর ৮৯০ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন। ঋণ আবেদনের উদ্দেশ্য যাচাই–বাছাই, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা পণ্য সংরক্ষণের গোডাউন, মালিকের ব্যবসায়িক চরিত্র, বৈশিষ্ট্য, ব্যবসায়িক মূলধন, আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসার বর্তমান অবস্থা, সম্পদ ও দায় পর্যালোচনা না করেই গ্রাহকের আবেদনটি পরের মাসেই অনুমোদন করা হয়। অথচ মিথ্যা বানোয়াট তথ্যের উপর ভিত্তি করে ঋণের আবেদনটি করা হয়েছিল।

ঋণ বিতরণের সময় বিভিন্ন ব্যাংকে গ্রাহকের বিপুল অংকের ঋণ থাকলেও সে বিষয়টি নিয়ে কোনো আপত্তি বা কোয়ারি করা হয়নি, এমনকি সেসকল ব্যাংকের অনাপত্তি নেয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তাও আমলে নেয়া হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ ক্রেডিট রেটিংয়ের উপর ভিত্তি করেই মাত্র ২১ দিনে একজন গ্রাহককে ৮৯০ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে, যার বিপরীতে জামানতের পরিমাণ বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের মাত্র ২৭০ কোটি টাকার এমটিডিআর।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল–জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ডপত্র তৈরি করে মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের নামে বিশাল অংকের এ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরকেও আমলে নেওয়া হবে।