ছাত্র-জনতার আন্দোলন, বড় আমদানিকারকদের বেহাল দশা, ডলার সংকট- সব শঙ্কা উড়িয়ে রমজানকে সামনে রেখে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভাসছে ২০ লাখ টনের বেশি পণ্যবাহী জাহাজ, আরও আসছে।
রমজানে তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু, ডাল, ছোলা, খেজুরসহ নিত্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। যোগান ব্যাহত হলে মজুদদারি ও দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবছর এ সময় দেশের মানুষ ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ে শংকিত থাকে।
এবছর সরকার পতন আন্দোলন, বড় আমদানিকারকদের পলায়ন, নিষ্ক্রিয়তা, দেউলিয়া অবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ব্যাংকের বেহাল দশা, ডলার সংকটে এলসি সীমিতকরণ, টাকার অবমূল্যায়ন – এ শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে রমজানকে সামনে রেখে বন্দরে ভিড়ছে একের পর এক জাহাজ। রাত-দিন চলছে পণ্য খালাস। এতে জনমনে ও সরকারে স্বস্তি ফিরেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর তথ্যমতে, ডিসেম্বর থেকে আমদানি বাণিজ্য পুরোদমে গতি পেয়েছে। ডিসেম্বরে ১ কোটি ৩৪ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছে, জানুয়ারিতেও ধারা অব্যাহত। প্রচুর পণ্য পাইপলাইনে রয়েছে।
জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি।
ডিসেম্বরে ভোজ্যতেল, পাম ও সয়াবিন তেল ২ লাখ ৪০ হাজার টন, চিনি ১ লাখ ৪ হাজার টন, পেঁয়াজ ৮২ হাজার টন, ডাল ১ লাখ ৯৫ হাজার টন, ছোলা ২৮ হাজার ৩৩৪ টন, খেজুর ৪ হাজার ৯৭৮ টন আমদানি হয়েছে।
ইস্টার্ন ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, রমজান সামনে রেখে প্রচুর এলসি হয়েছে, অনেক পণ্য এসেছে, আরও আসবে। ডলার সংকট কাটতে শুরু করায় এলসির পরিমাণ বেড়েছে। বড় আমদানিকারকরা মাঠে না থাকলেও ছোটরা সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রচুর পণ্য আমদানি হচ্ছে, শুল্কায়ন ও খালাস চলছে। সাগরে পণ্য নিয়ে অনেক জাহাজ অপেক্ষায় আছে।
পর্যাপ্ত আমদানি হওয়ায় রমজানে বাজারে সংকট থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মানুষের ভোগান্তি বাড়তে পারে।