সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

প্রতিদ্বন্দ্বীদের উত্থানে উদ্বেগ, ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে আশার সঞ্চার

মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে, আশার আলো অপ্রচলিত বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ক্রমেই কমছে। ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর রপ্তানি বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, শ্রম অসন্তোষ এবং কারখানা বন্ধের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম ক্রেতা। ২০২২ সালে দেশটি বাংলাদেশ থেকে ৯.০৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করলেও, ২০২৩ সালে তা কমে ৮.২৭ বিলিয়ন ডলারে এবং ২০২২ সালে ৭.২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গত বছর ভারত ৪.৫০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৫১% বেশি। পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া যথাক্রমে ২ বিলিয়ন ডলার এবং ৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে, প্রবৃদ্ধি ৬.৫% এবং ০.১৫%। ভিয়েতনাম ১৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে ৪.৫% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত। তাদের আশঙ্কা, দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো মার্কিন ক্রেতাদের নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হচ্ছে।

তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি বাংলাদেশের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন চীন এবং মেক্সিকোর পণ্যের উপর শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেক্সিকোর পোশাকের উপর শুল্ক ০% থেকে ২৫% এবং চীনের পোশাকের উপর শুল্ক ২৫% থেকে ৫০-৬০% করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর ফলে, মার্কিন বাজারে এই দেশগুলোর পোশাকের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ভারত, কোরিয়া, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, চিলি, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ ৬.৩৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। বাজার সম্প্রসারণের এই প্রবণতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য ইতিবাচক।

গার্মেন্টস মালিকরা মনে করছেন, বাজার যত বেশি বৈচিত্র্যময় হবে, ততই কোনো বিশেষ দেশ বা অঞ্চলের উপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে। তারা শ্রম অসন্তোষ দমন এবং পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিএমইএর একজন সাবেক সভাপতি বলেন, “দেশের তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষায় সরকারকে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে।”

পাঠকপ্রিয়