সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

রমজানে পণ্যের দাম বাড়াতে লাইটারেজ জাহাজে ভাসমান গুদাম!

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

রমজান মাস কাছে আসার সাথে সাথে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অস্থিরতার মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শত শত লাইটারেজ জাহাজ আমদানি পণ্য নিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। আমদানিকারকেরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামে লাইটারেজ জাহাজের সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সময়মতো পণ্য খালাস না হওয়ায় আমদানি পণ্য পরিবহনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) জানিয়েছে, রমজানকে সামনে রেখে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য এখনো খালাস হয়নি। প্রায় ২৬৯টি লাইটারেজ জাহাজে কয়েক লাখ টন পণ্য এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসছে।

এদিকে আমদানিকারকেরা রমজানে দাম বাড়ার আশায় জাহাজগুলোকে সাগরে ভাসমান গুদাম বানিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণত, গুদামে পণ্য মজুত করলে প্রশাসনের অভিযানের ভয় থাকে, কিন্তু জাহাজে সেই ঝুঁকি নেই। তাই অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ কে কাজে লাগাচ্ছে।

বিডব্লিউটিসিসির নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) জিএম খান এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এতগুলো জাহাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে আটকে থাকলে সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।” তিনি আমদানিকারক ও এজেন্টদের দ্রুত জাহাজ খালাসের আহ্বান জানান। বর্তমানে প্রায় ৮৮৮টি জাহাজ দেশের বিভিন্ন ঘাটে অবস্থান করছে, যেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৩৫টি মাদার ভ্যাসেল পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিটি জাহাজের জন্য অন্তত দুটি করে লাইটারেজ জাহাজ প্রয়োজন হলেও বিডব্লিউটিসিসির সিরিয়ালে রয়েছে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫টি জাহাজ। ফলে সব জাহাজে চাহিদা অনুযায়ী লাইটারেজ জাহাজ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

লাইটারেজ জাহাজের সংকটের কারণে দেশের আমদানি বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী জাহাজ না পাওয়ায় মাদার ভ্যাসেলের বহির্নোঙরে অবস্থানকাল বেড়ে যাচ্ছে, যা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

বাজার অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে লাইটারেজ জাহাজগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা বলছেন, কিছু জাহাজ আটকে থাকার বিষয়টি সত্য। তবে, জাহাজ খালি করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে। তারা আরও জানান, অনেক জাহাজ মালিক খালি করার পরও ঘোষণা না দিয়ে বেশি ভাড়ার আশায় অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ আবার সিরিয়ালের বাইরে গিয়ে পণ্য পরিবহন করেন।

জাহাজ মালিক ও নাবিকদের ভোগ্যপণ্য পরিবহনে অনাগ্রহকেও সংকটের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোগ্যপণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। খাদ্য বিভাগের ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই জাহাজ পণ্য বোঝাই করতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো সেক্টরে একটি সমন্বিত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না করা গেলে এই সংকট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১৮০০ লাইটারেজ জাহাজ থাকলেও, মেরামতের কাজ, ভাড়ার বাইরে যাওয়া, মোংলা ও পায়রা বন্দরে চলে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে জাহাজের সংখ্যা কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

রমজানে পণ্যের দাম বাড়াতে লাইটারেজ জাহাজে ভাসমান গুদাম!

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৫২

রমজান মাস কাছে আসার সাথে সাথে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অস্থিরতার মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শত শত লাইটারেজ জাহাজ আমদানি পণ্য নিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। আমদানিকারকেরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামে লাইটারেজ জাহাজের সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সময়মতো পণ্য খালাস না হওয়ায় আমদানি পণ্য পরিবহনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) জানিয়েছে, রমজানকে সামনে রেখে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য এখনো খালাস হয়নি। প্রায় ২৬৯টি লাইটারেজ জাহাজে কয়েক লাখ টন পণ্য এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসছে।

এদিকে আমদানিকারকেরা রমজানে দাম বাড়ার আশায় জাহাজগুলোকে সাগরে ভাসমান গুদাম বানিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণত, গুদামে পণ্য মজুত করলে প্রশাসনের অভিযানের ভয় থাকে, কিন্তু জাহাজে সেই ঝুঁকি নেই। তাই অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ কে কাজে লাগাচ্ছে।

বিডব্লিউটিসিসির নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) জিএম খান এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এতগুলো জাহাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে আটকে থাকলে সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।” তিনি আমদানিকারক ও এজেন্টদের দ্রুত জাহাজ খালাসের আহ্বান জানান। বর্তমানে প্রায় ৮৮৮টি জাহাজ দেশের বিভিন্ন ঘাটে অবস্থান করছে, যেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৩৫টি মাদার ভ্যাসেল পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিটি জাহাজের জন্য অন্তত দুটি করে লাইটারেজ জাহাজ প্রয়োজন হলেও বিডব্লিউটিসিসির সিরিয়ালে রয়েছে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫টি জাহাজ। ফলে সব জাহাজে চাহিদা অনুযায়ী লাইটারেজ জাহাজ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

লাইটারেজ জাহাজের সংকটের কারণে দেশের আমদানি বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী জাহাজ না পাওয়ায় মাদার ভ্যাসেলের বহির্নোঙরে অবস্থানকাল বেড়ে যাচ্ছে, যা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

বাজার অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে লাইটারেজ জাহাজগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা বলছেন, কিছু জাহাজ আটকে থাকার বিষয়টি সত্য। তবে, জাহাজ খালি করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে। তারা আরও জানান, অনেক জাহাজ মালিক খালি করার পরও ঘোষণা না দিয়ে বেশি ভাড়ার আশায় অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ আবার সিরিয়ালের বাইরে গিয়ে পণ্য পরিবহন করেন।

জাহাজ মালিক ও নাবিকদের ভোগ্যপণ্য পরিবহনে অনাগ্রহকেও সংকটের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোগ্যপণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। খাদ্য বিভাগের ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই জাহাজ পণ্য বোঝাই করতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো সেক্টরে একটি সমন্বিত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না করা গেলে এই সংকট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১৮০০ লাইটারেজ জাহাজ থাকলেও, মেরামতের কাজ, ভাড়ার বাইরে যাওয়া, মোংলা ও পায়রা বন্দরে চলে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে জাহাজের সংখ্যা কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।