চট্টগ্রাম বন্দরে বিলাসবহুল গাড়ির নিলামে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। বারবার নিলাম ডেকেও আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। এর মূল কারণ হিসেবে গাড়ির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়া, যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেতে দেরি এবং নিলাম সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ী করা হচ্ছে।
ল্যান্ড ক্রুজার, মার্সিডিজ বেঞ্জ, রেঞ্জ রোভার, বিএমডব্লিউ, হ্যারিয়ার-এর মতো বিলাসবহুল গাড়িগুলো, যাদের বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি, সেগুলোকেও নিলামে আশানুরূপ দামে বিক্রি করতে পারছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো চুরিও হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র পাওয়া এবং বিআরটিএ-র হয়রানির কারণেও ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ২৪ জন প্রাক্তন এমপির আনা ৪৪টি নতুন গাড়ির নিলাম ডেকেছে। এর মধ্যে জাপানি তৈরি ২৬টি ল্যান্ড ক্রুজার, ৫টি টয়োটা হ্যারিয়ার, ২টি টয়োটা র্যাভ ফোর এবং ১টি টয়োটা এস্কোয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি ল্যান্ড ক্রুজার সম্পূর্ণ নতুন, যা প্রাক্তন সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় এনেছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, গাড়ির নিলাম প্রক্রিয়া এবং মূল্য নির্ধারণ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকে। কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা বিজন কুমার তালুকদার বলেন, এনবিআর এর নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষিত মূল্যের কাছাকাছি দর না পেলে বারবার নিলাম ডাকতে হয়।
২৭শে জানুয়ারি অনলাইনে এই নিলাম শুরু হয়েছে এবং ১৭ই ফেব্রুয়ারি বাক্স খোলা হবে। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুল্ক-করসহ গাড়িগুলোর সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রথম নিলামে ৬০ শতাংশ বা তার বেশি দরদাতারা গাড়ি কিনতে পারবেন।
কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, আমদানির ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস না করলে, বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসের নিলাম শাখায় তালিকা পাঠায়। আমদানিকারককে নোটিশ দেওয়ার পরও ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য না নিলে, মোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার নিয়ম। কিন্তু, সময়মতো নিলাম না হওয়ায় গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, যন্ত্রাংশ চুরি হয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেতে দেরি হয়।
ব্যবসায়ীদের মতে, এনবিআর যদি নিলাম প্রক্রিয়া সহজ করে এবং বাধাগুলো দূর করতে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বিলাসবহুল গাড়িগুলো স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করতে হবে না, ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়বে।
এর আগে ৩৪টি বিলাসবহুল গাড়ি মাত্র ৯ কোটি ২৮ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ২০২২ সালে প্রতিটি গাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ৩২ লাখ টাকা।