শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে কাপ্তাই লেকের পানির স্তর কমে যাওয়ায় এবং শ্যাওলা ও লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে নগরীতে দৈনিক প্রায় ১৪ থেকে ১৫ কোটি লিটার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পানি কম ছাড়ার কারণে হালদা নদীতে মিঠা পানির প্রবাহ কমে গেছে, যা লবণাক্ততা ও শ্যাওলা বৃদ্ধির মূল কারণ।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেকের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এবং একইসঙ্গে শ্যাওলা ও লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় পানি উৎপাদন কমে গেছে। কাপ্তাই লেকে পানির স্তর কমে গেলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনও কমিয়ে দিতে হয়। বর্তমানে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটিই বন্ধ রয়েছে। ফলে হালদা নদীতে মিঠা পানির প্রবাহ কমে গিয়ে কর্ণফুলী নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। এতে করে ওয়াসার পানি শোধনাগারগুলোতে শ্যাওলা ও লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, যা পানি উৎপাদনকে ব্যাহত করছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ আনোয়ারা পাশা জানিয়েছেন, “কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পানি কম ছাড়ায় হালদা নদীতে মিঠা পানির পরিমাণ কমে গেছে। হালদার উজানের পানির চাপ কমে যাওয়ায় কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের লবণাক্ত পানি হালদায় প্রবেশ করছে। ফলে ওয়াসার উৎপাদন কমে যাচ্ছে।”
ওয়াসার প্রকৌশলীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরে বর্তমানে দৈনিক ৬০ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও ওয়াসা সরবরাহ করতে পারছে ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার। কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প ফেইজ-১ ও ফেইজ-২-এর উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ১৪ কোটি লিটার করে হলেও, শ্যাওলার কারণে উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি লিটারে। মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দৈনিক ৯ কোটি লিটার এবং মদুনাঘাট পানি শোধনাগার প্রকল্পের উৎপাদনও কমে গেছে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আব্দুজ্জাহেরের ভাষ্যমতে, “বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর রয়েছে ৯১.১১ ফুট এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। কিন্তু রুলকার্ভ অনুযায়ী বর্তমানে পানি থাকার কথা ৯৬.০২ এমএসএল। প্রায় ৫ ফুট পানি কম থাকার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত রাখতে হচ্ছে।”
হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শীতকালে নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এবং জৈব পদার্থের উপস্থিতির কারণে শ্যাওলার বৃদ্ধি ঘটে। তিনি আরও বলেন, “এসব শ্যাওলা পানি শোধনাগারের ফিল্টারে জমে পানি উৎপাদন ব্যাহত করে।” শ্যাওলা নিয়ন্ত্রণে ক্লোরিন, আলগিসাইড, কার্বন ফিল্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পানি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। পানির স্তর কমে যাওয়া, শ্যাওলা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি – এই ত্রিমুখী সংকটে চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।