মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

শ্রীমাই পাড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস, এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পটিয়ার শ্রীমাই খালের পাড়ে প্রতিরক্ষা ব্লক স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় দুই তীরের হাজারো বাসিন্দার মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভাঙনের আতঙ্কে থাকা মানুষগুলো এবার নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১১৫৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের আওতায় এই প্রতিরক্ষা ব্লক স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় শ্রীমাই খালসহ অন্যান্য খাল খনন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীর তীর সংরক্ষণ, ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ এবং ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

শ্রীমাই পাড়ের বাসিন্দা আবু ছিদ্দিক জানান, বিগত কয়েক বছরে অনেকেই ভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। বর্ষাকালে রাত জেগে পাহারা দিতে হতো। এবার ব্লক বসানোর কারণে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৩০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে। ২৬টি স্লুইস গেটের মধ্যে ২২টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি দুটির কাজ চলমান। এছাড়াও ২৫.৫১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১২.৫০ কিলোমিটার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নদীর তীর সংরক্ষণের কাজও প্রায় ৪৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

তবে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। এখনো পর্যন্ত মাত্র ১০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পাউবো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৫৮.৯২৮ হেক্টর জমির মধ্যে অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অফিসে পাঠানো হয়েছে এবং প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে পটিয়াসহ পাশের কর্ণফুলী, চন্দনাইশ ও বোয়ালখালীর প্রায় ১০ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা উপকৃত হবেন।

পাউবো গৃহীত এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পটিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আসার পাশাপাশি নদী ও খালের ভাঙন থেকে তিনটি উপজেলা সুরক্ষা পাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ জানান, প্রকল্পের ভৌত কাজের ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। খাল খনন ও স্লুইস গেট স্থাপনের কাজও শেষের পথে।

এদিকে, পটিয়ার শ্রীমাই খালে ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মাল্টিপারপাস হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের জুন মাসে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ১১০৮ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে এবং ভাঙন প্রতিরোধ করা যাবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম (এইচইডি) একটি নতুন প্রযুক্তি, যা রাবার ড্যামের মতো কাজ করে। এটি ব্যবহার করে পাহাড়ি ঢাল ও বর্ষা মৌসুমের বিপুল পরিমাণ পানি সংরক্ষণ করা যাবে, যা শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পটিয়ার তিনটি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ রক্ষা, ইকো-ট্যুরিজমের সুযোগ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

পাঠকপ্রিয়