চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে। সম্প্রতি সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন খালের মুখ পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব সরঞ্জাম এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরবাসী এর সুফল পাবে। তবে, পূর্ণ সুফল পেতে নগরীর খালগুলোর অভ্যন্তরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা প্রয়োজন।
গত ১৯ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন বিভিন্ন খালের অংশে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি ও বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, রাজাখালী খাল, চাক্তাই খালসহ শহরের সাথে কর্ণফুলী নদীর সংযোগ স্থাপনকারী বিভিন্ন খাল ও নালার মুখে ভেসে আসা প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে কর্ণফুলী নদীর মূল চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি বন্দর এলাকার খালগুলোর বর্জ্য অপসারণ করে আসছে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চবক। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ৫৫ লক্ষ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনে এই প্রকল্পটি শেষ হবে।
বন্দর সূত্র আরও জানায়, ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মতো এই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পরও নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। তবে, জলাবদ্ধতার মূল সমস্যাটি খালের ভেতরে নিহিত, যা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার বহির্ভূত। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না রাখলে বন্দর কর্তৃপক্ষের নেওয়া কার্যক্রমের সম্পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া দুটি কাটার সাকশান ড্রেজারের পাশাপাশি নিজস্ব বহরের একটি এম্পিবিয়াস ড্রেজার এবং একটি বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ ‘বে ক্লিনার-১’ প্রকল্প এলাকায় মোতায়েন করেছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই খালের মুখে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, নদী, নালা, খাল ও ড্রেনে বর্জ্য না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।