মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

দেশেই বাস বানাবে বিআরটিসি : খরচ কমবে, সময়ও বাঁচবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশ থেকে বাস আমদানিতে দীর্ঘসূত্রিতা ও বিপুল অর্থব্যয় এড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) এবার দেশেই বাস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ডিজেলচালিত একতলা বাস তৈরির জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চেসিস সংগ্রহ করে নিজস্ব কারিগরদের দিয়ে বাস তৈরি করা হবে। এতে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যাত্রীবাহী বাস আমদানিতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। এই ঝামেলা এড়িয়ে সাশ্রয়ী উপায়ে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বিআরটিসি দেশেই বাস তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে ডিজেলচালিত একতলা বাস তৈরির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চেসিস সংগ্রহ করে নিজেদের ওয়ার্কশপে বাস তৈরি করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় বাস তৈরিতে দক্ষ টেকনিশিয়ানদের কাজে লাগানো হবে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতি মাসে অন্তত ১০টি বাস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী মাস থেকেই কাজ শুরু হবে। যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক বাস তৈরিতে জোর দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে একটি সাধারণ বাস আমদানি করতে খরচ হয় প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টাকা। সেখানে দেশে তৈরি করলে খরচ অনেক কম পড়বে। অশোক লিল্যান্ড বাসের ক্ষেত্রে খরচ পড়বে ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং হিনো ওয়ান জে বাসের ক্ষেত্রে খরচ পড়বে ৯৩ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত একটি অত্যাধুনিক এসি বাসের ক্রয়মূল্য যেখানে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, সেখানে বিআরটিসির নিজস্ব ওয়ার্কশপে খরচ হবে মাত্র ৯৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিআরটিসির গাজীপুর ও তেজগাঁওয়ের ওয়ার্কশপগুলোতে বাস তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। এছাড়াও, দক্ষ প্রকৌশলী ও কারিগর থাকায় কাজটি সহজেই সম্পন্ন করা যাবে।

সাধারণত, ৪৫ আসনের একটি বাস থেকে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টাকা নিট লাভ করা সম্ভব। এই হিসাবে, দেশীয়ভাবে বাস তৈরি করলে বিনিয়োগের অর্থ চার বছরে তুলে আনা সম্ভব হবে।

পাঠকপ্রিয়