রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকা, পুষ্টি কার্যক্রমসহ স্বাস্থ্য খাতের ৩৮টি বৃহৎ উন্নয়ন কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদ্যমান সেক্টর কর্মসূচির (ওপি) মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং নতুন কর্মসূচির অনুমোদন না মেলায় সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে আগামী সপ্তাহে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। চলতি মাসেই নতুন কর্মকৌশল চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং সেবামূলক কার্যক্রম মূলত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার (ওপি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির চতুর্থ পর্যায় গত বছরের জুনে শেষ হয়েছে। পঞ্চম স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনুমোদন না পাওয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার চলমান কর্মসূচিগুলো দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় খরচে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এরই মধ্যে নতুন পরিকল্পনার সফট ও হার্ডকপি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা কমিশন পঞ্চম সেক্টর কর্মসূচিকে সর্বশেষ ধরে একটি ‘এক্সিট প্ল্যান’ প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর ডা. হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, চলতি কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে এবং এর মধ্যেই একটি ‘এক্সিট প্ল্যান’ তৈরি করতে বলা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল মনে করেন, নতুন কর্মসূচি গ্রহণের আগে কমপক্ষে দুই বছরের প্রস্তুতি প্রয়োজন। সরকারের উচিত চলমান ওপি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন কর্মকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সবার সম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে বর্তমান ওপি কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য সেক্টর কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। ইন্টিগ্রেটেড হেলথকেয়ার ডেলিভারি সিস্টেমের আওতায় একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে।