সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে রিকশার পা-দানিতে নাফিজের নিথর দেহের স্কেচ

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে রিকশার পা-দানিতে গোলাম নাফিজের নিথর দেহের স্কেচ। বাংলাদেশে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট, ২০২৪ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসমূহ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনে, জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের ছাত্র-জনতার ওপর চালানো নৃশংসতার চিত্র হিসেবে রিকশার পাদানিতে এক ছাত্রের নিথর দেহের ছবিটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। গত ৫ আগস্ট দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রথম পাতায় ছবিটি ছাপা হওয়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারকে ওই সময়ের নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সরাসরি দায়ী করা হয়েছে।

ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদের তোলা মূল ছবিতে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ এক তরুণের দেহ রিকশার পাদানিতে পড়ে আছে। তার মাথা রিকশার বাইরে ঝুলছে, মুখ আকাশের দিকে। রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গত ১২ আগস্ট প্রকাশিত একটি দৈনিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ তরুণের নাম গোলাম নাফিজ (১৭)।

গুলিবিদ্ধ নাফিজকে যখন রিকশার পাদানিতে তোলা হয়, তখনও সে রিকশার রডটি হাত দিয়ে ধরে রেখেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ নাফিজকে নিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ঢুকতে গেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা তাকে বাধা দেন।

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সদ্য একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নাফিজ মহাখালীতে পরিবারের সঙ্গে থাকত। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল ছোট। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর নাফিজের বাবা-মা তার সন্ধান পান। তবে ততক্ষণে নাফিজ আর বেঁচে নেই।

প্রতিবেদনে ছবিটির স্কেচ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ফ্যাসিস্টদের নির্মমতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে রিকশার পা-দানিতে নাফিজের নিথর দেহের স্কেচ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২১:১১

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে রিকশার পা-দানিতে গোলাম নাফিজের নিথর দেহের স্কেচ। বাংলাদেশে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট, ২০২৪ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসমূহ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনে, জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের ছাত্র-জনতার ওপর চালানো নৃশংসতার চিত্র হিসেবে রিকশার পাদানিতে এক ছাত্রের নিথর দেহের ছবিটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। গত ৫ আগস্ট দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রথম পাতায় ছবিটি ছাপা হওয়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারকে ওই সময়ের নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সরাসরি দায়ী করা হয়েছে।

ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদের তোলা মূল ছবিতে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ এক তরুণের দেহ রিকশার পাদানিতে পড়ে আছে। তার মাথা রিকশার বাইরে ঝুলছে, মুখ আকাশের দিকে। রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গত ১২ আগস্ট প্রকাশিত একটি দৈনিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ তরুণের নাম গোলাম নাফিজ (১৭)।

গুলিবিদ্ধ নাফিজকে যখন রিকশার পাদানিতে তোলা হয়, তখনও সে রিকশার রডটি হাত দিয়ে ধরে রেখেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ নাফিজকে নিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ঢুকতে গেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা তাকে বাধা দেন।

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সদ্য একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নাফিজ মহাখালীতে পরিবারের সঙ্গে থাকত। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল ছোট। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর নাফিজের বাবা-মা তার সন্ধান পান। তবে ততক্ষণে নাফিজ আর বেঁচে নেই।

প্রতিবেদনে ছবিটির স্কেচ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ফ্যাসিস্টদের নির্মমতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।