সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

৮ বছর পর নাফ নদীতে মাছ ধরার অনুমতি পেলেন জেলেরা

কক্সবাজার প্রতিনিধি

মাদক ও চোরাচালান রোধে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে টেকনাফের নাফ নদীতে মাছ ধরার অনুমতি পেলেন জেলেরা। হাইকোর্টের রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এই অনুমতি প্রদান করে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চোরাচালান ও ইয়াবা পাচার বন্ধের অজুহাতে নাফ নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হলেও তাতে ইয়াবা পাচার বন্ধ হয়নি। বরং, নিষেধাজ্ঞার কারণে নাফ নদীতে মাছ ধরেই যাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হতো, সেই হাজার হাজার জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করেছে।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে মাছ ধরার অনুমতি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পত্রে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলেদের বৈধভাবে মাছ ধরার কার্যক্রম চালু করতে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫টি শর্তে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শর্তানুসারে, জেলেরা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমানার অভ্যন্তরে শাহপরীর দ্বীপ হতে টেকনাফ জেটিঘাট পর্যন্ত মাছ ধরতে পারবেন। মাছ ধরতে যাওয়ার সময় এবং ফিরে আসার সময় জেলেদের বিজিবির নির্ধারিত পোস্টে টোকেন/পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং তল্লাশির জন্য বিজিবি সদস্যদের সহযোগিতা করতে হবে। কোনো জেলে চেকপোস্টকে না জানিয়ে মাছ ধরতে যেতে পারবেন না এবং কোনোভাবেই বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করতে পারবেন না। মৎস্য অধিদপ্তরের হালনাগাদকৃত নিবন্ধিত জেলেদের তালিকা বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রদান করা হবে, যাতে অনিবন্ধিত কেউ মাছ ধরতে না পারে।

এই অনুমতি সম্পূর্ণ সাময়িক এবং তিন মাস পর সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অনুমতি নবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানিয়েছেন, জেলেদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

টেকনাফ মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আমান উল্লাহ জেলেদের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি বলেন, রাতে মাছ বেশি পাওয়া যায়, তাই রাতে মাছ ধরার অনুমতি না পেলে জেলেদের সংসার চালানো কঠিন হবে।

পাঠকপ্রিয়