রমজান মাস সন্নিকটে। নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমানো হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানকে লক্ষ্য করে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি করা হলেও লাইটার জাহাজের অভাবে তা বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্যবোঝাই ৪৮টি লাইটার জাহাজ ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসের জন্য পর্যাপ্ত লাইটার জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি অনেক মাদার ভেসেলে একটিও লাইটার জাহাজ ভিড়তে পারেনি। ফলে, আমদানিকারকদের প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডলার ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর।
খাতুনগঞ্জ হামিদ উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিসের মতে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বড় আমদানিকারকদের একাংশ লাইটার জাহাজ আটকে রাখায় এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।
লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, রমজানসহ বছরের বিভিন্ন সময় গুদামের অভাবে অনেক ব্যবসায়ী লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে, এবার এই প্রবণতা অনেক বেশি।
লাইটার জাহাজ মালিকদের সংগঠন আইভোয়াকের সহ-সভাপতি পারভেজ আহমেদ জানান, চাহিদার তুলনায় লাইটার জাহাজ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সংকট সমাধানে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, নৌ পরিবহন অধিদফতর জানিয়েছে, সরকার রমজানে বাজার স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি হলেও লাইটার জাহাজ সংকটের কারণে তা বাজারে পৌঁছাচ্ছে না। অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব আমদানিকারক লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।
এই পরিস্থিতিতে, রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে লাইটার জাহাজ সংকট নিরসনের পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।