চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)। কিন্তু গত ১৫ বছরে সংস্থাটির কার্যক্রম বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিকল্পিত নগর গড়ার চেয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে তারা। বিশেষ করে উড়ালসড়ক ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মতো প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়ায় নগরবাসীর আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা বলছেন, সিডিএ নগরবাসীর জন্য আবাসন নিশ্চিত করার কাজটি যথাযথভাবে পালন করেনি। এমনকি, ভবনের নকশা ঠিকমতো তদারকি না করায় অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে চট্টগ্রাম বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।
সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম আবাসন প্রকল্পের প্রতি অনাগ্রহের কথা স্বীকার করে বলেন, “আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা মানে মধ্যবিত্তের জায়গা অধিগ্রহণ করে উচ্চবিত্তদের কাছে বিতরণ করা।” তিনি জানান, অনেক সংসদ সদস্যও একাধিক প্লট নিয়েছেন, যাদের আগে থেকেই শহরে জায়গা ছিল।
সিডিএ সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের পর থেকে সংস্থাটি নতুন কোনো আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেনি। ২০১৭ সালে ‘অনন্যা আবাসিক এলাকা দ্বিতীয় পর্যায়’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও সেটিও বাতিল করা হয়। অথচ এই প্রকল্পের জন্য বিদেশ সফর করেছিলেন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
১৯৬৩ সালে কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা প্রকল্পের মাধ্যমে সিডিএর আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়। এরপর আরও ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও ১৯৯৫ সালের কর্ণফুলী আবাসিক এলাকা এবং ২০০৫ সালের অনন্যা আবাসিক এলাকায় এখনো কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না থাকায় প্লট মালিকেরা ভবন নির্মাণ করতে পারছেন না।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, “সিডিএর মূল দায়িত্ব পালনের চেয়ে জলাবদ্ধতা প্রকল্প, উড়ালসড়ক ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মতো অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। এর ফলে নগরের মানুষকে ভুগতে হচ্ছে।”
সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, ১২টি আবাসিক প্রকল্পে মোট ৬ হাজার ৭৫৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আগ্রাবাদ, চান্দগাঁও, চন্দ্রিমার মতো আবাসিক এলাকাগুলোতে প্লট থাকলেও কল্পলোক আবাসিক এলাকার দুটি পর্যায়ে এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।