মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

দিগন্ত জুড়ে সরিষার হলুদ হাসি, বাম্পার ফলনে কৃষকের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন হলুদের সমারোহে ঢাকা। দেখলে মনে হয় প্রকৃতি যেন হলুদ রঙে নিজেকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে। মাঠজুড়ে সরিষার ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারপাশ, আর সেই সাথে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের ঝিলিক। এবার সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় অধিক লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যার ফলে এবার সরিষার ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। চলতি বছর সরকারিভাবে উপজেলার বিভিন্ন জাতের ১৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়, যা গত মৌসুমের চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি। তবে বেসরকারিভাবে এই আবাদ দ্বিগুণেরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফুলে ফুলে সরিষা ক্ষেত ভরে ওঠায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

নাজিরহাট পৌরসভার কৃষক আবদুল মান্নান জানান, তিনি ৪০ শতক জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবছর ফলন আরও ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদী।

আবদুল্লাহপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন বলেন, “সরিষার ফলন দেখে মন ভরে গেছে। মাঠজুড়ে শুধু ফুল আর ফুল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারব।”

সুয়াবিল গ্রামের আজম উদ্দিন ২৫ শতক জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। তিনি জানান, ফলন বেশ ভালো হয়েছে। মাঘ-ফাল্গুণ মাসেই সরিষা তোলার ভরা মৌসুম। আর কিছুদিন পরেই পুরোদমে সরিষা কাটা ও মাড়াই শুরু হবে।

নাজিরহাট ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আশরাফ জামান বলেন, “সরিষাক্ষেত প্রকৃতিতে যেন এক হলুদ আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। সরিষার তেল ও খৈল দুটোই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সরিষার এই অপরূপ দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে।”

রোসাংগিরি গ্রাম থেকে সরিষাক্ষেতে ঘুরতে আসা মুন্না কুমার শীল বলেন, “বাংলাদেশের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে আকর্ষণ করে। কৃষকসহ খেটে খাওয়া মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই সরিষাক্ষেত। বাংলার প্রকৃতির টানেই প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন এখানে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান জানান, এ অঞ্চলের মাটি সরিষা চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী, তাই প্রতি বছরই আবাদ বাড়ছে। কৃষকরা সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন বলেই আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, “কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান, সময়মতো সার-বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার সরিষার আবাদ ও ফলন দুটোই বেড়েছে। আমরা বাম্পার ফলনের আশা করছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “সরকার কৃষিখাতে নিয়মিত প্রণোদনা দিচ্ছে এবং কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

ফটিকছড়ির এই সরিষার ক্ষেতগুলো কেবল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক নয়, সেইসাথে এটি গ্রামীণ সৌন্দর্যেরও এক অপরূপ নিদর্শন।

পাঠকপ্রিয়