রোজাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে স্থবিরতা নিরসনে এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সাগর পাড়ি দেওয়ার অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও ৩৫টি লাইটারেজ জাহাজকে সাময়িকভাবে বহির্নোঙরে গিয়ে পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বিদেশ থেকে আমদানি করা হাজার হাজার টন পণ্য নিয়ে আসা মাদার ভ্যাসেলগুলো থেকে পণ্য খালাসে গতি আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন আমদানি বাণিজ্যে গতি আসবে, তেমনি চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি মাদার ভ্যাসেলের গড় অবস্থানকাল কমে আসবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিপিং সেক্টরে বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্য বহির্নোঙরে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খালাস করা হয়। প্রায় ১৮০০ লাইটারেজ জাহাজ এই বিপুল পরিমাণ পণ্য খালাস করে কর্ণফুলী নদীর ১৬টি ঘাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অন্তত ৬০টি গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য সরবরাহ নেটওয়ার্ক সচল থাকে।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটারেজ জাহাজগুলোর বেশিরভাগই বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বিডব্লিউটিসিসি প্রতিদিন বার্থিং সভার মাধ্যমে মাদার ভ্যাসেলের বিপরীতে চাহিদা অনুযায়ী লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ করে।
কিন্তু সম্প্রতি, বহির্নোঙরে মাদার ভ্যাসেলগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী লাইটারেজ জাহাজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আমদানিকারকদের অভিযোগ, জাহাজের অবস্থানকাল বেড়ে যাওয়ায় পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম অর্ধেকে নেমে আসার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বন্দরে জাহাজজট সৃষ্টি হয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, বিডব্লিউটিসিসি জানায়, দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত লাইটারেজ জাহাজকে ভাসমান গুদাম বানিয়ে আটকে রাখার কারণে জাহাজ সংকট তৈরি হয়েছে। রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা জাহাজেই পণ্য মজুদ করায় নতুন করে পণ্য খালাসের জন্য জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর জরুরি বৈঠক করে ভাসমান গুদামের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে, সাগর পাড়ি দেওয়ার অনুমোদন না থাকা (বে-ক্রসিং পারমিশন) ৪৫ মিটারের কম দৈর্ঘ্যের জাহাজগুলোকে সাময়িক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে, হালনাগাদ সার্ভে রিপোর্ট থাকা সাপেক্ষে ‘এম’ সিরিয়ালের ৩৫টি জাহাজকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাগর পাড়ি দিয়ে বহির্নোঙরে গিয়ে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিডব্লিউটিসিসির প্রধান নির্বাহী মেজর (অব.) জিএম খান বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যার সুফল এক সপ্তাহের মধ্যেই পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, এই বিশেষ অনুমোদনের ফলে লাইটারেজ জাহাজের সংকট কিছুটা হলেও কমবে এবং রমজান মাসে অভ্যন্তরীণ পণ্য সরবরাহ নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।
গতকাল বহির্নোঙরে পণ্য বোঝাই ৩৪টি মাদার ভ্যাসেলের বিপরীতে মোট ৬১টি লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।