খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের পাহাড়ি গ্রামে সম্প্রতি বিপন্ন প্রজাতির মুখপোড়া হনুমানের দেখা মিলেছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) এই প্রজাতিটিকে বিশ্বব্যাপী বিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেরুংয়ের বিহারকেন্দ্রিক প্রায় একশ একরের প্রাকৃতিক বনে হনুমান, হরিণ, ধনেশ, ছলকসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বসবাস রয়েছে। ঘন বন ও শিকার নিষিদ্ধ থাকায় এলাকাটি বন্যপ্রাণীদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
মুখপোড়া হনুমান, Capped Langur নামেও পরিচিত, প্রাইমেট প্রজাতির একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা মূলত গাছের পাতা ও ফল খেয়ে জীবনধারণ করে। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Trachypithecus pileatus। পুরুষ হনুমানের দেহের দৈর্ঘ্য ৬৮-৭০ সেমি এবং লেজ প্রায় ৯৪-১০৪ সেমি লম্বা হয়। স্ত্রী হনুমানের দেহ ৫৯-৬৭ সেমি এবং লেজ প্রায় ৯০ সেমি লম্বা হয়। এদের দেহের চামড়া কালচে এবং লোম গাঢ় ধূসর-বাদামি হয়ে থাকে। মুখমণ্ডল, কান, হাত ও পায়ের পাতা কুচকুচে কালো রঙের হয়।
হিল অর্কিড সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সাথোয়াই মার্মা জানান, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির হনুমানের মধ্যে মুখপোড়া হনুমানের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বন ছাড়া এদের দেখা পাওয়া যায় না। বন উজাড় হওয়ার কারণে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং আবাসস্থল হারানোর ফলে এরা শঙ্কায় রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, মুখপোড়া হনুমানের সংখ্যা দেশে আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। এরা দলবদ্ধভাবে বিচরণ করে এবং একেকটি দলে ২ থেকে ১৪টি প্রাণী থাকে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় তারা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের ১৯৭৪ ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।