মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম ওয়াসার পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮ সালে সরকারি অর্থায়নে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় ৩,৮০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,২১৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, চট্টগ্রাম ওয়াসা সংশ্লিষ্টদের না জানিয়েই ২,২৮৪ কোটি টাকার কাজ ঠিকাদারকে দিয়েছে, যা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১১১ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজের ডিজাইন পরিবর্তন, টেন্ডার আহ্বান এবং কাজের পরিধি (স্কোপ) পরিবর্তনের জন্য সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) মাধ্যমে ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের আগে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা অথবা পরিকল্পনা কমিশনের পূর্বানুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম ওয়াসা তা না করেই সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) পুনর্গঠন করে অনুমোদনের জন্য কমিশনে পাঠিয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনা অনুযায়ী, মূল ডিপিপিতে তিনটি প্যাকেজের (ডব্লিউ-১, ডব্লিউ-২, ডব্লিউ-৩) জন্য মোট ২,০৫৩.৭৩ কোটি টাকার সংস্থান ছিল। কিন্তু ডিজাইন বিল্ড পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের পর এই তিনটি প্যাকেজের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪,৩৩৭.৬১ কোটি টাকা, যা মূল ডিপিপির চেয়ে ২,২৮৪ কোটি টাকা (১১১ শতাংশ) বেশি।

পরিকল্পনা কমিশন আরও জানায়, প্রকল্প সংশোধন বা পূর্বানুমোদন ছাড়াই ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্যাকেজ ডব্লিউ-১ এবং ২০২২ সালের ২২ জুন বাকি দুটি প্যাকেজের অনুমোদন সিসিজিপির মাধ্যমে করানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম ওয়াসা ২০১৮ সালে ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন করে। ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকলেও পরে প্রকল্পের প্রথম সংশোধন প্রস্তাব করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পরিকল্পনা কমিশনের সভায় সংশোধিত ডিপিপি পাঠানো হলেও তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৫,২১৯ কোটি টাকার সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হলে অনিয়মগুলো নজরে আসে।

প্রকল্প পরিচালক কামরুল ইসলাম অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওয়াসা চুক্তি করার আগে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। পারচেজ কমিটিতে পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্যও থাকেন।” তিনি আরও জানান, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ব্যয় সমন্বয় করা হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটিতে একটি বিদেশি কোম্পানির স্বার্থ জড়িত এবং প্রস্তাবিত প্যাকেজগুলোর মধ্যে ওয়াসার বর্জ্য পুড়িয়ে সার বানানোর মতো অবাস্তব পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, মাটির গভীরে পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনাটি ঝুঁকিপূর্ণ, যা একবার বন্ধ হলে ঠিক করা সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ চলছে এবং এতে পরিবেশগত ঝুঁকি নেই। গভীর পাইপলাইন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি নেই বললেই চলে এবং এটি মেরামতযোগ্য বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রতিবেদনের শেষাংশে, বিগত সরকারের আমলে পরিকল্পনা কমিশনকে দুর্বল করে রাখার অভিযোগ এবং প্রভাবশালী মন্ত্রীদের কথায় প্রকল্প অনুমোদনে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক পটপরিবর্তনের পর এ ধরনের প্রকল্পগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পাঠকপ্রিয়