চট্টগ্রামে নগরী ও জেলার দেড় শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে ভেজাল ঘি। পাম অয়েল, ডালডা, সুজি, রং, ফেবিকল আঠা ও সুগন্ধি মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব নকল ঘি। মুদি দোকানি ও বাবুর্চিদের একাংশ এসব ভেজাল ঘি কিনে ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল ঘিতে ব্যবহৃত ক্ষতিকারক উপাদানগুলোর কারণে মানবদেহে মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অকেজো হয়ে যেতে পারে।
বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী জানান, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাছাকাছি নাম দিয়ে অথবা বাহারি নামে মোড়ক তৈরি করে তাতে বিএসটিআইয়ের ভুয়া অনুমোদন লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে এসব ঘি। রমজানকে সামনে রেখে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে যেসব ভেজাল ঘি পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে- ডানোপা ঘি, এসবি ঘি, এমইআই ঘি, টেসপি ঘি, শতভাগ খাঁটি ঘি, গোয়ালা ঘি, রাজা ঘি, জব্বার ঘি, গোল্ডেন ঘি, পিওর ঘি, রয়েল ঘি, রাজধানী ঘি, রাজবাড়ী ঘি, আনন্দ গাওয়া ঘি, খাঁটি গাওয়া ঘি সহ আরও অনেক নাম।
অন্যদিকে, ভেজাল ঘি ও চা পাতা বিক্রির অপরাধে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিএসটিআই চট্টগ্রাম অফিসের সহকারী পরিচালক নিখিল রায় জানান, রমজান ও ঈদকে ঘিরে ঘিয়ের চাহিদা বাড়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা তৎপর হয়ে ওঠে। তিনি চট্টগ্রামের অনুমোদিত ঘিয়ের তালিকা প্রকাশ করেন।
তালিকায় রয়েছে – রাজ ঘোষ ঘি , টেস্ট্রি ঘি, আসিয়ান ঘি, মিল্ক ক্যারি ঘি, গোল্ড ঘি, হোমল্যান্ড ঘি, মার্ক ঘি, এ-৭ ঘি, এ-৭ স্পেসাল ঘি, এ-৭ গোল্ড ঘি, এ-৭ প্রিমিয়াম ঘি, মিষ্টি মুখ ঘি, বনফুল ঘি, সুপার বাগাবাড়ি ঘি, কুকমি (পিএম) ঘি, কুকমি এসপি ঘি, কুকমি ভিআই পি ঘি, কুকমি মনোরমা ঘি, সলিড ঘি, ফুলেল ঘি, কোয়ালিটি ঘি, নিউ চট্টলা ঘি,নিউ চট্টলা বাটার অয়েল, এস এ থ্রি ঘি, আই কিউ ঘি, দেশি ডেইরি ঘি, রাজরানী প্রিমিয়াম ঘি, রাজরানী সুপার ঘি, রাজরানী ঘি, রাজরানী বাটার অয়েল, তৃপ্তি ঘি, চিটাগং ক্লাব ঘি, গ্রীন হারবেস্ট ঘি, রিফাত ঘি, পিউর ওয়ান ঘি, গাউসিয়া প্রিমিয়াম ঘি, আদি ঘি, আরওয়া ঘি, আবিরা ঘি, শাপলা ঘি, রাজিব ঘি, মমতা, সাদা কালো, ফ্লেভার, হালিশহর মার্ট, চৌধুরী ক্রিমি, চৌধুরী ক্রিমি বাটার অয়েল, ওয়েল ফুড, ক্লাস এ-১, তৃপ্ত, পল্লী বাংলা, বারাকা, এ-১, এ-১ প্রিমিয়াম, গাভী গোল্ড, কাউ স্টার, সোনালেী স্পেশাল, সোনালী সুপার, কুটুম প্রিমিয়াম এবং কোয়ালিটি বাটার অয়েল।
ঘি কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সাবধান থাকতে অনুরোধ করেছেন বিএসটিআই কর্মকর্তারা।
ভেজাল ঘি চেনার কিছু উপায় রয়েছে। প্রথমত, খাঁটি ঘি গরম করলে দ্রুত গলে যায় এবং গাঢ় বাদামি রঙ ধারণ করে। যদি ঘি গলতে সময় নেয় এবং হালকা হলুদ রঙ ধারণ করে, তবে তা ভেজাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, হাতের তালুতে সামান্য ঘি রাখলে যদি শরীরের তাপেই গলে যায়, তবে তা খাঁটি।
তৃতীয়ত, ডাবল বয়লার পদ্ধতিতে ঘি গলিয়ে জমাট বাঁধার পর যদি একাধিক স্তর দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে তাতে ভেজাল মেশানো হয়েছে। চতুর্থত, আয়োডিন পরীক্ষায় যদি ঘিয়ের রং বেগুনি হয়ে যায়, তবে তা খাঁটি নয়। পঞ্চমত, একটি বোতলে ঘি নিয়ে তাতে চিনি মিশিয়ে ঝাঁকানোর পর যদি বোতলের নিচে লাল আস্তরণ জমে, তাহলে বুঝতে হবে সেই ঘিয়ে ভেজাল রয়েছে।